Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাকপুরগামী বিটি রোডে সিঁথি মোড়ের পর বিজ্ঞাপনের জঙ্গল, বোধদয় প্রশাসনের, যৌথ পরিদর্শনে বেআইনি হোর্ডিং সরানোর সিদ্ধান্ত

এলাকা পরিবর্তন হলেই বিটি রোডের চরিত্রও বদলে যাচ্ছে

বারাকপুরগামী বিটি রোডে সিঁথি মোড়ের পর বিজ্ঞাপনের জঙ্গল, বোধদয় প্রশাসনের, যৌথ পরিদর্শনে বেআইনি হোর্ডিং সরানোর সিদ্ধান্ত
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: এলাকা পরিবর্তন হলেই বিটি রোডের চরিত্রও বদলে যাচ্ছে। সিঁথির মোড় পার করে বারাকপুর মহকুমায় পা দিলেই বিটি রোড ঢেকে যাচ্ছে বেআইনি হোর্ডিং, ব্যানারে। অথচ, কলকাতা পুরসভা এলাকায় সেই চিত্র দেখা যায় না। এনিয়ে হইচই হতেই নড়েচড়ে বসল বারাকপুর মহকুমা প্রশাসন। বিটি রোড যেসব পুরসভা এলাকা দিয়ে গিয়েছে সেইসব পুরসভাকে নিয়ে বুধবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে পুলিস, পরিবহণ দপ্তর ও পুরসভার চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। বারাকপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ বারিক বলেন, বৈঠকে ঠিক হয়েছে, যৌথ পরিদর্শনের পর আইন মেনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। অর্থাৎ বেআইনি হোর্ডিংগুলি খুলে ফেলা হবে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্যামবাজার থেকে বারাকপুর পর্যন্ত বিটি রোড পূর্তদপ্তরের কলকাতা নর্থ ডিভিশনের আওতাধীন। এই রাস্তার দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার। সিঁথির মোড় পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এই রাস্তার দুই পাশে গাছের সারি। বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং সেভাবে চোখে পড়বে না। কিন্তু কলকাতা পুরসভা এলাকা শেষে সিঁথির মোড় থেকে বরানগর পুরসভায় পা রাখলেই বিটি রোডের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। রাস্তার দুই লেনেই কয়েক হাত ছাড়াই একের পর এক ইউনিপোল। সেখানে হোর্ডিংয়ের সারি। এমনকী, রাস্তার ধারে লোহার কাঠামোতেও হোর্ডিং লাগানো। রাস্তার ডিভাইডারেও শয়ে শয়ে ছোট ছোট বিজ্ঞাপন। এমনকি, বিজ্ঞাপনের জন্য রাস্তার ধারের গাছ যথেচ্ছভাবে কাটা হচ্ছে। অথচ, নির্বিকার বিভিন্ন পুরসভা।
পূর্তদপ্তরের জায়গার উপর এইসব ইউনিপোল হোর্ডিং ও মনোপোল বিলবোর্ড তৈরির কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। আধিকারিকদের দাবি, যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় ইউনিপোল ও মনোপোল বিলবোর্ড ভেঙে পড়তে পারে। ২০২৪ সালে মুম্বইতে বিলবোর্ড ভেঙে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল, ৮০ জন জখম হয়েছিলেন। বিটি রোডে একটিও ইউনিপোল হোর্ডিং বা বিল বোর্ডের অনুমতি পূর্তদপ্তর দেয়নি। অথচ, বিটি রোডে সেই হোর্ডিং থেকেই কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চলছে।
এসব নিয়ে হইচই হতেই বুধবার বারাকপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ বারিকের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক হয়। জুম মিটিংয়ে বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিস আধিকারিক, পরিবহণ দপ্তর, বরানগর, কামারহাটি, পানিহাটি, খড়দহ, টিটাগড় ও বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যানরা ছিলেন। পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, প্রতিটি পুরসভা এলাকায় প্রশাসন, পুলিস ও পূর্তদপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে যৌথ পরিদর্শন হবে। বেআইনি হোর্ডিংগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি খুলে ফেলা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ