নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল জমানার ‘দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শহরজুড়ে সমস্ত ধরনের নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কলকাতা পুরসভাও নির্দেশিকায় বলেছে, শহরের সমস্ত নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ের কাজ আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পুরসভা সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি বরোভিত্তিক যৌথ টিম পরিদর্শন করবে নির্মীয়মান বিল্ডিংগুলি। খতিয়ে দেখে ‘সন্তোষজনক’ মনে হলেই মিলবে পুনরায় নির্মাণের এনওসি। তবে, শুধু কলকাতা নয়। রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, বিষ্ণুপুর গ্রামীণ এলাকা, বারুইপুর পুর এলাকায় সব নির্মাণকাজ চার সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে বলে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ছাড় পাবে শুধু জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত নির্মাণ।
মুখ্যমন্ত্রীর হুংকার, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল কংগ্রেস অর্থের বিনিময়ে, কাটমানির বিনিময়ে, প্রোমোটারদের দিয়ে এই কলকাতাকে মরণ ফাঁদে পরিণত করেছে। তাই তৃণমূল আমলে পাশ হওয়া সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান এবং আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং আমরা অডিট করাব। যতক্ষণ না অডিট সার্টিফিকেট তৈরি হচ্ছে, ততদিন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হবে না। তারপর তো প্রপার্টি অ্যাটাচ করব। একদম জিরো টলারেন্স।’
অডিটের জন্য ইতিমধ্যেই কমিটি গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মাথায় থাকছেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদার আইএএস অফিসার রাজেশ পান্ডে। সদস্য হিসাবে থাকবেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব খলিল আহমেদ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ সিনহা, শ্রমসচিব রচনা ভগত, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে, পিডব্লুডির চিফ ইঞ্জিনিয়ার, কলকাতা পুরসভার ডিজি (বিল্ডিং), ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের ডিজি, রাইটস এবং খড়্গপুর আইআইটি’র বিশেষজ্ঞরা।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, নজরে মূলত শহরের বিভিন্ন নির্মীয়মান বাণিজ্যিক বিল্ডিংগুলি। যেখানে নির্মাণের উচ্চতা এবং বহর বেশি। যৌথ টিম কী কী খতিয়ে দেখবে, তারও একটি এসওপি তৈরি করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষেই পুর-অভিযান শুরু হওয়ার কথা। জানা গিয়েছে, প্রতিটি বরোতে নূন্যতম একটি, সর্বোচ্চ তিনটি টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা ভিজিট করবে। এই টিমে থাকবেন পুরসভা, কেএমডিএ, পিডব্লিউডি, পুলিশ, বেসরকারি বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা বা সিইএসসি, দমকল এবং সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা। পুরসভার এক শীর্ষকর্তা বলেন, কোন কোন বিষয়গুলি স্পটে গিয়ে খতিয়ে দেখা হবে, তার একটা এসওপিও তৈরি হচ্ছে। অনেকটা প্রশ্নপত্রের মত। তার ভিত্তিতেই হবে চেকিং। অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান মেনে নির্মাণ হচ্ছে কি না, স্ট্রাকচারাল ডিজাইন বা প্ল্যান সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থা পুরসভায় জমা করেছে কি না, কী ধরনের বা কেমন গুণমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, সবটাই খতিয়ে দেখবে এই যৌথ দল।