নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও আরামবাগ: নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় শাসকদলের দিকে আঙুল তুলেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের হাত ধরেই এই দুর্নীতির জাল বিস্তৃত হয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুসারে ‘দাগি অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সেই দাবিই জোরালো হচ্ছে। এই তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন তৃণমূলের নেতা কিংবা নেতা ঘনিষ্ঠ।
রবিবার সকাল থেকেই দাগি অযোগ্যদের তালিকায় ৪২৩নম্বরে থাকা দীনদয়াল সিংহের নাম ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে একটি ছবিও রয়েছে। ছবিতে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি পুরুলিয়ার ঝালদার প্রাক্তন ব্লক সভাপতি দীনদয়াল সিংহ মাহাত। ঝালদার হেঁট জারগোর বাসিন্দা দীনদয়াল কংগ্রেস করতেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তিনি ব্লক সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্লক সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ২০২০ সালে প্রথমে কোচবিহারের একটি স্কুলে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে বদলি হয়ে পাড়া ব্লকের একটি স্কুলে চলে আসেন। এদিন তাঁকে বহুবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি। বাড়িতে গিয়েও তাঁর দেখা মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা কিছু বলতে চাননি।
জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত বলেন, ঝালদায় ওইসময় তৃণমূলের সেরকম সংগঠন ছিল না। সংগঠনকে মজবুত করতেই দীনদয়ালকে তৃণমূলে যোগদান করিয়ে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় চাকরির প্রসঙ্গে আমি কোনও মন্তব্য করতে পারব না।
এসএসসির দাগি তালিকায় তৃণমূলের একঝাঁক নেতা-নেত্রী ও পরিজনের নাম ঘিরে আরামবাগ মহকুমায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে অযোগ্যরা এব্যাপারে কেউ সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুলতে চাননি। তৃণমূলের একাংশের দাবি, তালিকায় নাম রয়েছে হুগলি জেলা পরিষদের প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সাহিনা সুলতানার। জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য বিভাস মালিক ও তাঁর স্ত্রী সন্তোষী মালিকেরও নাম রয়েছে। এছাড়া খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ সভাপতি নইমুল হক ওরফে রাঙার স্ত্রী নমিতা আদকের নামও তালিকায় রয়েছে। তাঁরা আরামবাগ, খানাকুল ও তারকেশ্বরের স্কুলে চাকরি করতেন। তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরা অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে সংবাদ মাধ্যমে বিভাসবাবু বলেন, স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আইনি লড়াই চলছে চলবে।
পুরশুড়ার বিধায়ক বিজেপির বিমান ঘোষ বলেন, তৃণমূল নেতারা শিক্ষকতার চাকরি চুরি করেছেন। এই তালিকা থেকেই তা স্পষ্ট। তার সঙ্গে নেতা ও তাঁদের পরিজনদেরও চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আরও অনেকেই আছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা বেরলে তা স্পষ্ট হবে। তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহ রায় বলেন, যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ বিজেপিতে গিয়েছিলেন। দল তাঁদের কাউকেই প্রশ্রয় দেয়নি।