নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাত্র সমাবেশের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় থেকে খুলে ফেলা হল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা বিলবোর্ড। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকালে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ওই চত্বর। পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের তুমুল ধস্তাধস্তির মধ্যেই চলে কিল, চড়, ঘুসি। তৃণমূলের অভিযোগ, অন্যায়ভাবে এবং জোর করে কার্যালয়ে ঢুকেছে পুলিশ। প্রশাসনের অবশ্য দাবি, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সাইনবোর্ড খোলা হয়েছে। তৃণমূলের কর্মীরা পুলিশ ও পুরসভার কাজে বাধা দিয়েছেন। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে এই খবর লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১২জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে কার্যালয়ে ঢোকার অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন অভিষেক।
৯, ক্যামাক স্ট্রিটে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ তথা মমতাপন্থী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কার্যালয় বহুদিনের। একটি সাততলা ভবনের উপরের ফ্লোর ভাড়া নিয়ে চলে এটি। এই ভবনের ছাদের রাস্তার দিকের অংশে সাইনবোর্ডটি লাগানো ছিল। এদিন গ্যাস কাটার, দড়ি, হাতুড়িসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে সেই সাইনবোর্ড খুলতে আসেন কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। সঙ্গে ছিল কলকাতা পুলিশ। তাঁরা ওই বিল্ডিংয়ে ঢুকতে গেলে তৃণমূল কর্মীরা বাধা দেন। প্রশাসনের এ সংক্রান্ত নির্দেশ দেখতে চান তাঁরা। সেই সময় অভিষেক ছাড়াও অফিসে ছিলেন সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সহ অনেকে। তাঁরা নেমে এসে পুলিশ ও পুরসভার কাছে নোটিস দেখতে চান। প্রশাসন যে নথি দেখায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডেরেকরা। তাঁদের দাবি, ওই কাগজে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা লেখা নেই। কেন বিলবোর্ডটি খুলতে হবে বা সংশ্লিষ্ট অভিযোগপত্রের ছবিও প্রশাসন দেখাতে পারেনি। এমনকি, ওই কাগজে কোনো সই, স্ট্যাম্প ছিল না। এই অবস্থায় তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, ‘আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসুন।’
এরপরই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়, তাঁদের মোবাইলেই রয়েছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র। তাঁরা ভিতরে ঢুকবেনই। এরপর পুলিশ অফিসে ঢুকতে গেলে তৃণমূল কর্মীরা বাধা দেন। পুলিশও ভিতরে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা করলে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পুলিশ কলাপসিবল গেট সরিয়ে ভিতরে ঢুকলে দলের কর্মীরা সিঁড়ি আটকে দেন। হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান কয়েকজন পুলিশকর্মী। বিল্ডিংয়ের বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার মহিলা কর্মীদের সঙ্গেও পুলিশের হাতাহাতি শুরু হয়। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই কাণ্ড। অবশেষে পুলিশ সিঁড়ি দিয়ে ছাদে পৌঁছায়। খুলে ফেলা হয় তৃণমূলের লোগো দেওয়া বিলবোর্ড। অভিষেকের দাবি, ‘পুলিশ অবৈধভাবে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে সূর্যাস্তের পর হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেছে তৃণমূলের সাইনবোর্ড। আমরা পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাব।’ তৃণমূলের দাবি, আজ, শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি যাতে সফল না হয়, তার জন্যই ঠিক আগের দিন বিজেপির পুলিশ এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এখানেই শেষ হয়নি চাপানউতোর। রাতের দিকে দেখা যায়, খুলে নেওয়া বিলবোর্ডের জায়গায় ফের লেগেছে প্রায় একই সাইজের হোর্ডিং। তাতে তৃণমূলের প্রতীকের পাশে নয়া সংযোজন মমতার ছবি!