সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ঠাকুমার নাম বালিকা কোলে। নিজের নামের মতো তাঁর মনটাও ছিল বালিকার মতন। শেষ ইচ্ছেপ্রকাশও করেছিলেন একটি বালিকার ন্যায়। বালিকা কোলের শেষ ইচ্ছা ছিল, তাঁর অন্তিমযাত্রা যেন হয় ধুমধাম করে। বাজি যেন অবশ্যই পোড়ে। কীর্তন যেন হয়। ঢাকঢোল, বক্স যেন বাজে। তাঁর ইচ্ছের মর্যাদা রেখেছেন নাতি-নাতনিরা। ৯৩ বছরের ঠাকুমার অন্তিমযাত্রা করেছেন জাঁকজমক করে। তা দেখে চমৎকৃত গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারা।
আমতা দু’নম্বর ব্লকে জয়পুর থানার ভাতেঘড়ি গ্রাম। শনিবার রাস্তা দিয়ে বাজনা বাজিয়ে যাচ্ছেন শতাধিক মানুষ। বাজি পুড়ছে। বক্স বাজছে। অনেকে ভেবেছিলেন প্রতিমা নিরঞ্জন হচ্ছে। তবে অচিরেই ভুল ভাঙে। দেখে বোঝেন, কোনও প্রতিমা বিসর্জনের আনন্দ তা নয়। এটি অন্তিমযাত্রা। শনিবার বিভিন্ন জায়গায় বাজি পুড়িয়ে বাদ্যযন্ত্র সহকারে জগদ্ধাত্রী পুজোর নিরঞ্জন হয়েছে। বালিকাদেবীর শেষযাত্রা অনেকটা সেরকমই দেখতে লেগেছে।
এদিন সকালে ৯৩ বছরের বালিকা কোলের মৃত্যু হয় বাধর্ক্যজনিত কারণে। মৃত্যুর পর তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী শেষযাত্রায় বক্স বাজিয়ে, বাদ্যযন্ত্র সহকারে বাজি পুড়িয়ে, কীর্তন করে ঠাকুমার মৃতদেহ গ্রামের শশ্মানে নিয়ে গিয়েছেন নাতি-নাতনিরা। বৃদ্ধার নাত বউ শম্পা কোলে জানান, ঠাকুমা মৃত্যুর আগে সবসময় বলতেন জন্মালে সবাইকে একদিন মরতে হবে। সুতরাং তাঁর মৃত্যুতে কেউ যেন কান্নাকাটি না করে। যে যার মত আনন্দ করে যেন মৃতদেহ শশ্মানে নিয়ে যায়। কিন্তু মৃত্যু তো আনন্দের নয়। তবুও ঠাকুমার শেষ ইচ্ছাকে মর্যাদা জানাতে আমাদের সকলে আনন্দ প্রদর্শন করে ঠাকুমার দেহ শ্মশানে নিয়ে যাই।