সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: জয়পুরের বৈতলে মল্লরাজাদের জমানায় বলির রক্তের খেলা আজ রুপান্তরিত হয়েছে কাদাখেলায়। এই উৎসব ঘিরে বিজয়ার দিন ঝগড়াই ভঞ্জনী মন্দির প্রাঙ্গণে হাজার হাজার পুরুষ ও মহিলারা কাদাখেলায় মাতেন। প্রতিবছর বিজয়ার দিন পুকুর থেকে মেশিন চালিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে রাস্তায় বাঁধ দিয়ে জল ভরতি করা হয়। সেই জলেই কাদা খেলা হয়। শুধু বৈতলই নয়, পুণ্য অর্জনের জন্য আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ এই কাদাখেলায় অংশ নেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঝগড়াই ভঞ্জন মাতার মন্দিরের সেবাইত সঞ্জয় সন্তকী বলেন, মল্লরাজার প্রতিষ্ঠিত ঝগড়াই ভঞ্জনী মাতার মন্দিরে একসময় প্রচুর পাঁঠা বলি হত। বলির রক্তে মন্দির প্রাঙ্গণ কার্যত ভেসে যেত। তাতে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হত। পরবর্তীকালে বলি তেমন হয় না। পরিবর্তে কাদা খেলা প্রচলিত হয়। আজও সেই ধারা চলে আসছে। এবছরও প্রচুর মানুষ কাদাখেলায় অংশ নেন।
কথিত আছে, বিষ্ণুপুরের রাজা প্রথম রঘুনাথ মল্ল কোনো এক সময় বৈতল হয়ে যুদ্ধে যাচ্ছিলেন। গভীর রাতে যাওয়ার সময় একটি বটগাছের তলায় এক বালিকা তাঁকে দর্শন দেন। এত রাতে একজন বালিকাকে দেখে রাজা তাঁকে কোনো দেবীর অংশ বলে মনে করেছিলেন। সেইসঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরে এসে সেখানে মন্দির প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার করেন। দেবীকে তুষ্ট করতেই পুজোর সময় বলির রক্তে খেলা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজা। সেই মতো ঝগড়াই ভঞ্জনী মাতার মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। এই পুজোয় প্রচুর বলি হয়। যদিও পরবর্তীকালে বলির সংখ্যা কমে গিয়েছে। প্রতীকী হিসাবে বলির রক্ত জলে মিশিয়ে দেওয়া হয়। সেই জলেই চলে কাদাখেলা। এখানে দেবীর কৃপা পাওয়ার জন্য কাদাজলে স্নান করতে বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন জয়পুরে। প্রতিবছর স্থানীয় একটি পুকুর থেকে মেশিনে করে মন্দির প্রাঙ্গণে মাটির বাঁধ দিয়ে হাঁটু সমান জল ভরতি করা হয়। সেখানেই কাদাখেলা হয়। একে অপরের দিকেও জল ছিটানো হয়। এভাবেই চলে কাদা খেলা। স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক কার্তিক দাসের কথায়, প্রায় ৪০০বছর আগে মল্লরাজাদের আমলে প্রতিষ্ঠিত দেবী দুর্গারূপী ঝগড়াই ভঞ্জনী মাতা খুবই জাগ্রত। এই দেবী ঝগড়া প্রশমিত করেন এবং সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেন ভক্তদের। সেজন্যই দেবীর নাম ঝগড়াই ভঞ্জনী। আমরা ছোটো থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে কাদাখেলা দেখে আসছি। শিশু, মহিলা, পুরুষ সবাই এতে অংশ নেন।



