Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেমিক্যালের কয়েক ফোঁটায় কেরোসিন বদলে যায় পেট্রলে! সূতিতে পর্দাফাঁস

কেমিক্যালের কয়েক ফোঁটায় কেরোসিন বদলে যায় পেট্রলে! সূতিতে পর্দাফাঁস
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: সামান্য কয়েক ফোঁটা কেমিক্যাল মেশালেই কেরোসিন হয়ে যাচ্ছে পেট্রল। সূতির ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে রীতিমতো ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বানিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল জ্বালানি। কম দামে কেরোসিন কিনে তাতে ওই বিশেষ কেমিক্যাল মিশিয়ে দিনের পর দিন ধরে চলছিল কারবার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সাজুর মোড় এলাকায় দু’টি জায়গায় পুলিস হানা দেয়। সঙ্গে ছিল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসাররাও। এভাবে পেট্রল তৈরির পদ্ধতি দেখে চক্ষুচড়কগাছ হয়ে যায় তাঁদের। গ্রেপ্তার করা হয় সাতজনকে। বাজেয়াপ্ত করা হয় পাঁচ ড্রাম ভেজাল পেট্রল। এই জ্বালানি বাইক চালকদের বিক্রি করা হয় বলেই জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন এমন পেট্রল ভরে বাইক চালালে ইঞ্জিনের দফারফা হয়ে যাবে বলে দাবি মেক্যানিকদের। 

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল, হারুন শেখ, মনিরুল শেখ, মুস্তাক শেখ, কাজল দাস, বিশ্বরূপ দাস, প্রেম কুমার দাস ও গণেশ ঘোষ। মুস্তাকের বাড়ি সামমশেরগঞ্জ। কাজল, বিশ্বরূপ, প্রেম কুমার, হারুন ও মনিরুলের বাড়ি সূতি এলাকায়। গণেশের বাড়ি বীরভূম এলাকায়। ধৃতদের তিনদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। মঙ্গলবার হেফাজত শেষে ধৃতদের জেলে পাঠানো হয়েছে।
জঙ্গিপুর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, জাতীয় সড়কের পাশে দুটি জায়গায় হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকে কয়েকশো লিটার ভেজাল জ্বালানি উদ্ধার হয়েছে। কী করে চোখের সামনে কেরোসিনকে পেট্রলে বদলে ফেলা হচ্ছিল, সেটা আমরা দেখলাম। সাতজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 
জঙ্গিপুর মহকুমায় আরও কয়েকটি জায়গায় এভাবে ড্রামকে ড্রাম কেরোসিন পেট্রলে পরিবর্তন করে ফেলার খবর রয়েছে। ড্রামগুলিতে ৫০০ লিটার করে জ্বালানি ধরে। বাইক এবং গাড়ির মেকানিকরা বলছেন, এই ভেজাল পেট্রল বাইকে ভরলে সাইলেন্সার দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। যা সাধারণত পেট্রল পাম্পের তেলে হয় না। যে সমস্ত দোকানে বোতলে করে খুচরো পেট্রল বিক্রি করা হয়, সেগুলি মূলত নিরাপদ নয়।  
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জানতে পেরেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে রাস্তার পাশে ভেজাল পেট্রল তৈরি করে বিক্রি করত তারা। আশপাশের বিভিন্ন দোকানে এবং অন্যান্য থানা এলাকাতেও এই পেট্রল খুচরো বোতলে ভরে বিক্রি করা হতো। এলাকার প্রভাবশালীরা অবগত থাকলেও টু শব্দও করেননি। কয়েকদিন আগে ফরাক্কার শঙ্করপুরেও একইভাবে কেরোসিন থেকে লাল পেট্রোল তৈরি করছিল কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। পুলিস সেখানেও হানা দিয়ে কারবার বন্ধ করে। 
ভেজাল পেট্রলের কারবার ফাঁস হতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে এলাকার বাইক চালকদের। 
এদিন প্রভাস ঘোষ নামে এক বাইক আরোহী বলছিলেন, ‘কী ভয়ংকর অবস্থা। অনেক সময় যাতায়াতের পথে তেল ফুরিয়ে গেলে খুচরো দোকান থেকে বোতলের তেল কিনতে হয়। দাম দিয়ে পেট্রল কিনে আমরা গাড়ির ইঞ্জিনের সর্বনাশ করেছি এতদিন। এনফোর্সমেন্ট বিভাগ আরও আগে অভিযান চালালে ভালো হতো। মহকুমার আর কোথায় কোথায় এই কারবার চলছে, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি জারি থাকুক।’ - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ