Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গণেশ পুজোকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে উৎসবের আবহ, ব্যস্ততা তুঙ্গে মৃৎশিল্পীদের

দুর্গাপুজোর ঢাক বাজতে এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু তার আগেই গণেশ পুজোর হাত ধরে শিলিগুড়িতে শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের আবহ। শহরের অলিগলি থেকে বাজার এলাকা সর্বত্র এখন গণেশ পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে।

গণেশ পুজোকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে উৎসবের আবহ, ব্যস্ততা তুঙ্গে মৃৎশিল্পীদের
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর ঢাক বাজতে এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু তার আগেই গণেশ পুজোর হাত ধরে শিলিগুড়িতে শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের আবহ। শহরের অলিগলি থেকে বাজার এলাকা সর্বত্র এখন গণেশ পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। এদিকে, অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীদের পিছনে ফেলে পুজো উদ্বোধনে ঝাঁপালেন অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। রবিবার তিনি মাটিগাড়া, উত্তরায়ণ ও শিবমন্দিরে একাধিক পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করেন। 

Advertisement

এক সময় শিলিগুড়িতে বিধান মার্কেট অটো স্ট্যান্ড, আশ্রমপাড়া ও রাজীব মোড়ের মতো হাতেগোনা কয়েকটি জায়গায় গণেশ পুজো হত। সময়ের সঙ্গে সেই পুজো ছড়িয়ে পড়েছে গোটা শহরে। বর্তমানে শিলিগুড়িতে প্রায় দু’শোরও বেশি গণেশ পুজো হয় বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। শুধু শহরেই নয়, গ্রাম, পাহাড়ের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সিকিমেও বাড়ছে গণেশ পুজোর সংখ্যা। ফলে গণেশ পুজোই এখন কার্যত শিলিগুড়িতে দুর্গাপুজোর আগাম সূচনা করে দিচ্ছে।
শহরের জলপাই মোড়, বিধান মার্কেট অটোস্ট্যান্ড, রাজীব মোড়, হাতিমোড়, কলেজপাড়া, স্টেশন ফিডার রোড-সহ বিভিন্ন বাজার ও পাড়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বেশ কয়েকটি জায়গায় তৈরি হচ্ছে থিমের মণ্ডপ। স্টেডিয়াম চত্বরেও হচ্ছে বিশাল আকারের গণেশ পুজো। আয়োজনের বহর অনেক ক্ষেত্রেই দুর্গাপুজোর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে।
তবে উৎসবের প্রস্তুতির মাঝেও উদ্যোক্তাদের চিন্তায় ফেলেছে খামখেয়ালি আবহাওয়া। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি হওয়ায় মণ্ডপ ও অন্যান্য আয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।
এর মধ্যেই নজর কেড়েছে শিলিগুড়ি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রমপাড়ার গণেশ পুজো। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার শ্রাবণী দত্ত বরাবরের মতো এবারও এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা। তাঁর নেতৃত্বেই চলছে পুজোর আয়োজন। এবারের আয়োজনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি প্রকাশ্যে নজরে পড়ছে না, সেখানে শ্রাবণীদেবীর পুজোর উদ্যোগ নিয়ে চর্চা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গণেশ পুজোর উদ্বোধন ঘিরেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ। রবিবার শিলিগুড়ির হাতিমোড়ে ‘নাইট আউল’-এর গণেশ পুজোর উদ্বোধন করেন সাংসদ রাজু বিস্তা। বিভিন্ন জায়গায় সাংসদ, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুজোর সূচনা হচ্ছে।
গণেশ পুজোর এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন শিলিগুড়ির কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। শিল্পীদের ব্যস্ততা এখন আর দুর্গাপুজোর কয়েক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গণেশ প্রতিমা তৈরির পরই তাঁদের বিশ্বকর্মা এবং পরে দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে ঝাঁপাতে হচ্ছে।
শিলিগুড়ির কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী পাপাই পাল বলেন, এবার গণেশ প্রতিমার ভালো চাহিদা রয়েছে। বড় আকারের বেশকিছু প্রতিমার বায়না শিলিগুড়ির বাইরেও পেয়েছি। তাঁর কথায়, আগে বিশ্বকর্মা পুজোর কয়েকটি প্রতিমা তৈরি করে দুর্গাপুজোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হত। এখন গণেশ পুজোর বিস্তারের কারণে কাজের চাপ ও আয়—দু’টোই বেড়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ