সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানে এক মহিলা শিক্ষাবিদকে প্রার্থী করে কি তৃণমূল চমক দিতে চলেছে? সেই চর্চায় মজে রয়েছেন দলের নেতা- কর্মীরা। ওই মহিলা শিক্ষাবিদকে কলকাতায় ধরনামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছাকাছি দেখা গিয়েছে। এসআইআরের নামে বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি সরব হয়েছেন। শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই তিনি পরিচিত। পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও শিক্ষা মহলে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদেরকেই প্রার্থী করা হোক না কেন সবস্তরের নেতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে ময়দানে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে বা যাঁরা দলের বিরুদ্ধে হাঁটবেন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পরই প্রচারের ঝাঁজ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের এক নেতা বলেন, এবারের প্রার্থী তালিকা একাধিক সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষা করার পর চূড়ান্ত হয়েছে। কোনও একজনের মতামত গুরুত্ব পায়নি। সহযোগী সংস্থা প্রার্থী তালিকা তৈরি করার পর রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জমা করে। সেটা আবার যাচাই করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। ২০২১সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার কোথাও বিজেপি থাবা বসাতে পারেনি। লোকসভা নির্বাচনেও শাসকদল নজরকাড়া ফলাফল করে। সেই কারণে এই জেলায় খুব বেশি পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তিন থেকে চারটি আসনে প্রার্থী পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে এবারের নির্বাচনেও ১৬টি আসনেই জয়ী হওয়ার টার্গেট নেতৃত্ব বেঁধে দিয়েছে। প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেকেই মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই নেতাদের সংগঠনের অন্য কাজে লাগানো হতে পারে। প্রথম সারির সব নেতাকেই বিধানসভা কেন্দ্রে সংগঠনের কাজ দেখভালের জন্য আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হবে।
তৃণমূলের আর এক নেতা বলেন, অন্যান্যবার প্রার্থী তালিকা নিয়ে তবুও আগাম কিছুটা অভাষ পাওয়া যায়। এবার সবকিছুই গোপন রাখা হয়েছে। জেলার কোনও নেতাকেই আগাম কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রার্থী তালিকা নিয়ে কয়েকজন নেতার মতামত নেওয়া হয়েছে। যদিও গুরুত্ব পেয়েছে একাধিক সংস্থার সমীক্ষা। একটি কেন্দ্রে প্রার্থী শেষ মুহূর্তে বদল করা হয়েছে। নবীন এবং প্রবীণদের নিয়েই এবারের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তার মাঝেই উঠে এসেছে ওই শিক্ষাবিদের নাম। তিনি কোন আসনে প্রার্থী হবেন তা নিয়েই চর্চা চলছে। জেলায় এখন একজন মহিলা বিধায়ক রয়েছেন। মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা এবার জেলায় বাড়ছে বলেই নেতাদের অনেকেই মনে করছেন। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত সকলকেই মেনে চলতে হবে।
বর্ধমানে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন।-নিজস্ব চিত্র