সংবাদদাতা, ঘাটাল: দুই পড়শি পরিবারের বিবাদের জেরে এক যুবককে চ্যালাকাঠ দিয়ে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। দাসপুর থানার রানাপুরে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম তাপস মান্না(২৭)। অভিযোগ, গত রবিবার পড়শি পরিবারের লোকজন ওই যুবকের মাথায় চ্যালাকাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতদিন তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ এই ঘটনায় মধুসূদন বাগ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
দাসপুর-১ পঞ্চায়েতের রানাপুরে তাপস ও মধুসূদনের বাড়ির সীমানার মধ্যে দূরত্ব মাত্র তিন ফুট। পুলিশ জানিয়েছে, দুই পরিবারের মধ্যে নানা কারণে গণ্ডগোল লেগেই থাকত। তাদের গালিগালাজ ও চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের বাড়ির লোকজনও অতিষ্ঠ ছিলেন। পঞ্চায়েত প্রধান লাল্টু চক্রবর্তী বলেন, বিভিন্ন সমস্যা মেটাতে দুই পরিবারকে নিয়ে বহুবার মিটিংয়েও বসা হয়েছে। সাময়িক মিটমাট হলেও পরে ফের দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। সামান্য বিষয় নিয়ে উভয়পক্ষ থানাতেও বেশ কয়েকবার অভিযোগ জানিয়েছিল।
কয়েকদিন আগে মধুসূদনের বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও বাড়ি এসে মারধরের অভিযোগ থানায় জানায় তাপসের পরিবার। তার পরিপ্রেক্ষিতে মধুসূদনের বাড়িতে পুলিশের নোটিশ আসে। পুলিশের অনুমান, এতেই মধুসূদনের বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল।
বাড়ি থেকে এক কিমি দূরে নিমতলায় তাপসের সেলুন রয়েছে। রোজ একই সময়ে তাপস সেলুন খুলতে যেতেন। রবিবার বিকেলে তিনি সাইকেলে চেপে সেলুনে যাচ্ছিলেন। তাপসের বাবা শান্তি মান্না বলেন, ছেলে সেলুনে যাওয়ার আগে থেকেই মধুসূদন, তার দুই ছেলে ও পরিবারের অন্যরা রাইমণি রোডের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ২০-২৫মিটার যেতে না যেতেই মধুসূদন ও তার দুই ছেলে চ্যালাকাঠ দিয়ে তাকে মারতে শুরু করে। ছেলে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
পরিবারের লোকজন তাপসকে উদ্ধার করে প্রথমে ঘাটাল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদিন সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই তাপসের পরিবারের তরফে মধুসূদন, তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মধুসূদনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, বাকি পাঁচজন অভিযুক্ত পলাতক। তাদের খোঁজ চলছে।