নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের শহর এলাকায় প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য কনভেয়ার বেল্টের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে রাজ্যের সমস্ত পুরসভা, ডেভেলপমেন্ট বোর্ডকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকদের কাছেও পৌঁছেছে সেই নির্দেশিকা। তাতে বলা হয়েছে, শহর-শহরতলি, মফসসল এলাকার (আরবান এরিয়া) যেখানে প্রতিমা বিসর্জন হয়, সেখানকার ঘাটগুলিতে বসাতে হবে কনভেয়ার বেল্ট। যেখানে যেমন জায়গা পাওয়া যাবে, সেই মতো ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের অনেক জায়গায় বড়ো এবং প্রশস্ত ঘাট রয়েছে। সেখানে এত লম্বা কনভেয়ার বেল্ট কীভাবে লাগানো সম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দিয়েছিলেন, প্রতিমা নিরঞ্জনে ক্রেনের ব্যবহার করা যাবে না। ক্রেন ব্যবহার না করা গেলে কীভাবে জলে পড়া মাত্র বড়ো বড়ো সাইজের প্রতিমা গঙ্গা থেকে তোলা হবে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। এর মাঝেই পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব খলিল আহমেদ নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, বিভিন্ন ঘাটে দৃষ্টিনন্দন ও মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করতে হবে। তার জন্য ঘাটে কনভেয়ার বেল্ট বসাতে হবে। কোন পুরসভা অঞ্চলে কতগুলি ঘাট রয়েছে, সেখানে কোথায় কতগুলি কনভেয়ার বেল্ট বসাতে হবে, তার জন্য কত খরচ হতে পারে, এসব তথ্য সংবলিত রিপোর্ট প্রতিটি পুরসভা এবং জেলাশাসককে দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী আর্থিক অনুমোদন দেওয়া হবে, যাতে শীঘ্রই ব্যবস্থা করা যায়।
যদিও বিভিন্ন বড়ো ঘাট, যেমন কলকাতার ক্ষেত্রে বাবুঘাটের বাজেকদমতলা কিংবা নিমতলা ঘাটের মত প্রশস্ত জায়গায় কীভাবে এত লম্বা কনভেয়ার বেল্ট বসানো সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি যথেষ্ট খরচসাপেক্ষ বলেও মনে করছেন কলকাতা পুরসভার কর্তারা। সেক্ষেত্রে সর্বত্র গঙ্গার ঘাটগুলিতে কনভেয়ার বেল্ট বসানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘সব জায়গায় কনভেয়ার বেল্ট বসানো সম্ভব নয়। তার বদলে লোহার ট্রলির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে দূষণের কথা মাথায় রেখে প্রতিমা গঙ্গার জলে পড়া মাত্র তুলতে গেলে ক্রেনই লাগবে। তাও নবান্নকে জানানো হয়েছে।
কনভেয়ার বেল্ট সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সামলাতে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর দু’জন নোডাল অফিসার নিযুক্ত করেছে। একজন দপ্তরের স্পেশাল সেক্রেটারি দেবপ্রিয় বিশ্বাস। আরেক জন হলেন কেএমডিএর চিফ ইঞ্জিনিয়ার সুমন সাহা। সূত্রের খবর, কোন কোন পুরসভা এলাকার কোন কোন ঘাটে কতগুলি কনভেয়ার বেল্ট বসাতে হবে, তার জন্য কত খরচ হতে পারে, সেই বরাদ্দ চূড়ান্ত হতে আরও দু’-একদিন সময় লাগবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পুরসভা থেকে প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে।