Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / কলকাতা

শ্যামার আরাধনায় মাতোয়ারা শহর

কালীর আরাধনায় মাতোয়ারা শহর। সর্বজনীন পুজোগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন মঠ‑মন্দির‑আশ্রমেও সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে কালীপুজো। উত্তর কলকাতার চিৎপুরে প্রাচীন চিত্তেশ্বরী মন্দির, কাশীপুরে বামনদাস মুখোপাধ্যায়ের কালীমন্দিরে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে অমাবস্যার রাতে পুজো হবে।

শ্যামার আরাধনায় মাতোয়ারা শহর
  • ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীর আরাধনায় মাতোয়ারা শহর। সর্বজনীন পুজোগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন মঠ‑মন্দির‑আশ্রমেও সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে কালীপুজো। উত্তর কলকাতার চিৎপুরে প্রাচীন চিত্তেশ্বরী মন্দির, কাশীপুরে বামনদাস মুখোপাধ্যায়ের কালীমন্দিরে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে অমাবস্যার রাতে পুজো হবে। পুজো দেখতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এই দুই মন্দিরে ভিড় জমান। এছাড়া শহরতলির যে পথ দিয়ে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব যাতায়াত করতেন, সেই কাশীপুর ও বরানগর গোপাললাল ঠাকুর রোডের সংযোগস্থলে যে বহু প্রাচীন কালীমন্দির আছে যেখানে ঠাকুরকে প্রণাম করতেন, এই মন্দিরের ঠাকুরের নাম সিদ্বেশ্বরী। এখানে কালী দক্ষিণমুখী। বরানগর গঙ্গার ধারে জয়মিত্র প্রতিষ্ঠিত কালীবাড়িতে পূজিতা মায়ের নাম কৃপাময়ী। মা এখানে দক্ষিণমুখী। মন্দির চত্বরে ১২টি শিব মন্দির আছে। মন্দিরের প্রবেশপথে ফটকের উপর দু’টি সিংহমূর্তি স্থাপিত। মন্দিরটি নবরত্নের আদলে গড়া। এই কালীমন্দিরেও রামকৃষ্ণদেবের শুভাগমন ঘটেছিল। বরানগর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে (কাচের মন্দির) নিত্য পূজিতা হওয়া কালীর নাম ‘ত্রিনয়নী’। আশ্রম প্রতিষ্ঠাতা স্বামী সত্যানন্দদেব এই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্যামাপুজোর রাতে নানা উপাচারে আরাধনা করা হয়ে থাকে। আশ্রম সভাপতি স্বামী সত্যপ্রকাশানন্দ জানান, এখানে মায়ের চরণতলে শিব সমন্বিত প্রচলিত কালীমূর্তি নয়। এখানে মায়ের কন্যারূপ। শিল্পী কালী পাল প্রথমে মাটি দিয়ে মূর্তি বানিয়েছিলেন। তারপর আশ্রম প্রতিষ্ঠাতা স্বামী সত্যানন্দদেবের নির্দেশে সেই মূর্তি পাথর কেটে তৈরি হয়। তার নামই মা ত্রিনয়নী। ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতেও ভাব ও ভক্তিসহকারে মাতৃ আরাধনা হয়ে থাকে। শহরতলির বঙ্কুবিহারী পাল লেনে কর্মকার বাড়িতেও আরাধনা হয়ে থাকে শ্যামা মায়ের। এখানে দক্ষিণা কালী মায়ের রং কালো। ষোড়শ উপাচারে পুজো করা হয়ে থাকে। সবুজ গাছ‑গাছালি ঘেরা জলাশয়ের ধারে মণ্ডপ বেধে কর্মকার বাড়ির পুজো অনুষ্ঠিত হয়। ওই বাড়ির তরফে কমল কর্মকার বলেন, আমাদের বাড়ির পুজোয় মাতৃপ্রতিমার কোনও হেরফের ঘটে না। মায়ের ফটো দেখে মৃৎশিল্গীকে দিয়ে কালীমূর্তি তৈরি করা হয়ে থাকে।

Advertisement

আশ্রম ও মন্দিরের পাশাপাশি কলকাতা ও শহরতলির নানা প্রান্তে সর্বজনীন পুজো এবার সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে। তার মধ্যে বাগবাজার, শ্যামপুকুর, শোভাবাজার, বিডন স্ট্রিট, বিধান সরণি, টালা, রবীন্দ্র সরণি, বেলগাছিয়া, শ্যামবাজার, পাথুড়িয়াঘাটা স্ট্রিট, সিমলা স্ট্রিট  সহ উত্তর কলকাতার এই সমস্ত অঞ্চলে শ্যামা ও দক্ষিণা কালীর একাধিক পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শহরতলির কিশোর অ্যাথলেটিক ক্লাব, ব্যানার্জিপাড়া সর্বজনীন, প্রিয় বালক সংঘ, পি কে সাহা লেনে প্রতিমা সাবেকি। ভবানীপুর ৬৮ পল্লির পুজো এবার ৭৪ বছরে পড়ল। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রশান্ত ঘোষ জানান, ২২ ফুটের কালী প্রতিমা সাবেকি। পুজোয় থাকছে চন্দননগরের আলোর নানা কারিকুরি। এন্টালির ভারতী সমিতির শ্যামাপুজো এবার ৯৬ তম বর্ষে পড়ল। পুজো কমিটির সভাপতি অসীম কুমার জানান, এবারকার ভাবনা ‘যেই কৃষ্ণ সেই কালী’ এবার এই পুজোয় বাড়তি আকর্ষণ তুবড়ি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ