Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাওয়ালির পাত্রবাড়িতে সিমেন্টের মাতৃমূর্তি

দুর্গার এক রূপ হল মঙ্গলচণ্ডী। বাওয়ালির চকেতবাটির পাত্রবাড়িতে ৪৫ বছর আগে দুর্গার এই রূপের প্রতিমা গড়ে এই পুজোর সূচনা হয়।

বাওয়ালির পাত্রবাড়িতে সিমেন্টের মাতৃমূর্তি
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: দুর্গার এক রূপ হল মঙ্গলচণ্ডী। বাওয়ালির চকেতবাটির পাত্রবাড়িতে ৪৫ বছর আগে দুর্গার এই রূপের প্রতিমা গড়ে এই পুজোর সূচনা হয়। তখন একটি ঘরের ভিতর মাটির প্রতিমা তৈরি করে মঙ্গলচণ্ডীর পুজো হত। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতেই। যষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী থেকে নবমী ও দশমীতে। তবে ঘটবিসর্জন হলেও প্রতিমা ঘরেই থেকে যেত। একই প্রতিমা পরের বছর রং করে ফের পুজো হয়েছে। এটাই চলে আসছে এখনো। পরবর্তীকালে দুর্গা প্রতিমা পুজোর সময় ও নিয়ম পালটানো হয়নি। ‘মা’ এখানে গোটা বাড়িতে অবস্থান করেন। এমনটাই বিশ্বাস পাত্রবাড়ির সদস্যদের। এক কথায়, অলৌকিকই বটে! 

Advertisement

বাড়ির প্রবীণ সদস্য নিমাই পাত্র বলেন, সত্যিই! সেই কবেকার কথা। বাচ্চা বয়স থেকেই এই জগজ্জনীর পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছি। সংসারে মায়ের কৃপার কত না অলৌকিক ঘটনা দেখলাম! তাঁর কথায়, আমার মা লক্ষ্ণীদেবী স্বপ্নাদেশ পান। সেই সূত্রেই মঙ্গলচণ্ডীর পুজোর শুরু। মা স্বপ্ন দেখেন ফের—তিনি দুর্গাপুজো করছেন। শুরু হয় দুর্গাপুজো।  মা বলতেন, আরে যিনি মঙ্গলচণ্ডী সেই তিনিই মাদুর্গা। সিমেন্টের দুর্গা তৈরি হল। অসুর, সিংহ আর দুর্গা একসঙ্গে। বাকি সব আলাদা। সেই মূর্তি এখনো প্রতিবছর পুজো হয়। 
এছাড়া প্রতিদিন মায়ের ভোগ ও পুজো চলে সারাবছর ধরে। নিমাইবাবু বলেন, মায়ের আশীর্বাদে আজ আমরা প্রতিষ্ঠিত। একসময় খাওয়া জুটত না আমাদের। অনটন লেগেই থাকত। একটাই মাটির ঘর ছিল। মাইলো আর ভুট্টো রান্না করে দুপুরে মা খাওয়াতেন। ধীরে ধীরে অনটন কেটে গেল! 
চাকরি পেলাম। জায়গা কিনে ভাইয়েরা এবং তাদের ছেলেরা দালান বাড়ি করেছে। আমার বিরাট নার্সারি হয়েছে। সিঁদুর গাছের চাষ হয়। এখন হাঁড়ি ভিন্ন হয়েছে। ২৫টি আলাদা বাড়ি। কিন্তু মা জগজ্জনীর এতটাই প্রভাব যে পুজোর দিনগুলিতে সকলে একজোট হই। সকলের মনে সবসময় ফুর্তি এবং চনমনে ভাব। মাকে নিয়ে সকলে মশগুল থাকে। এখন গোটা পাত্রবাড়িতে মায়ের সেবার কে কোন দায়িত্ব নেবে, তা নিয়ে সকলে ব্যস্ত। এবার ঠিক হয়েছে পুজোর দিনগুলিতে একজন গিন্নিকে প্রতি পাঁচঘরের সদস্যদের রান্না করে খাওয়াতে হবে। 
নিমাইবাবু জানান, এখন বাইরে মণ্ডপ করে মায়ের আরাধনা হয়। প্রতিদিন হয় নিরামিষ ভোগ। লক্ষ্মীপুজোয় গ্রামের মানুষকে খিচুড়ি ভোগ খাওয়ানো হয়। আগামী বছর মন্দির গড়ে মায়ের স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করাই আমাদের সকলের ইচ্ছে। তাঁর কৃপা হলেই তা সম্ভব হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ