Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চন্দ্রকোণায় ড্রেন থেকে একগুচ্ছ ভোটার কার্ড উদ্ধার, শোরগোল

শনিবার সাতসকালে চন্দ্রকোণায় ড্রেন থেকে একগুচ্ছ ভোটার কার্ড উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোঁসাই বাজার এলাকার ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বেঁধেছে।

চন্দ্রকোণায় ড্রেন থেকে একগুচ্ছ ভোটার কার্ড উদ্ধার, শোরগোল
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: শনিবার সাতসকালে চন্দ্রকোণায় ড্রেন থেকে একগুচ্ছ ভোটার কার্ড উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোঁসাই বাজার এলাকার ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বেঁধেছে। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সেখানে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলগুলি সরব হয়েছে। খবর পেয়ে চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নর্দমায় পড়ে থাকা কার্ডগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। খবর চাউর হতেই সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। যা সামাল দিতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বেশকিছু কার্ড নর্দমার জলে পড়েছিল। শুক্রবার রাতেই কেউ সেগুলি ফেলে দিয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কার্ডগুলি বর্তমানে পুলিশ হেপাজতে রয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, ড্রেনের নোংরা জলে বেশকিছু ভোটার কার্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে কার্ডগুলি সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুদর্শন দাস বলেন, এদিন সকালে বাড়ির সামনে ড্রেনের কাছে ওই ভোটার কার্ডগুলি পড়ে থাকতে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যাই। তড়িঘড়ি প্রতিবেশীদের ডাকি। থানায় খবর দিই। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বা পরে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতেই এই কার্ডগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যা এখন লোকচক্ষুর সামনে চলে এল।
ঘটনা প্রসঙ্গে সুর চড়িয়েছে বামেরা। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সুস্মিত পাল জানান, এবার ঝুলি থেকে বিড়াল বের হতে শুরু করেছে। তৃণমূলের লোকজন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই কার্ডগুলি কার্যত কেড়ে নিয়েছিল। তাঁদের প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিজেরা ভোগ করছিল। এভাবেই তৃণমূল সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে ঠকাচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক রহস্য ফাঁস হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। 
বিজেপি নেতা সুদীপ কুশারী বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, নর্দমা থেকে উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির প্রকৃত রহস্য কী, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনা হোক। ঠিক কী উদ্দেশ্যে কার্ডগুলি সেখানে ফেলা হয়েছিল, তার আসল সত্য বের করা প্রয়োজন।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। চন্দ্রকোণার প্রাক্তন বিধায়ক তথা চন্দ্রকোণা-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি ছায়া দলুই বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত শুনেছি। এটি পুরোপুরি প্রশাসনিক বিষয়। এর সঙ্গে দলের কোনো যোগসূত্র নেই। প্রশাসন কার্ডগুলি নিয়ে গিয়েছে। তারাই ঘটনার তদন্ত করে দেখুক।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কার্ডগুলি কীভাবে সেখানে এল, তা পুলিশ খতিয়ে দেখুক। 
উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলি আসল কি না এবং সেগুলি কোন এলাকার ভোটারদের নামে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। চন্দ্রকোণা-২ বিডিও উৎপল পাইক বলেন, ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনাটি শুনেছি। কার্ডগুলি বহু পুরানো। ভোটারদের বর্তমান কার্ড বলে মনে হচ্ছে না। এর সঙ্গে এসআইআরেরও কোনো সম্পর্ক নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ