Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আয় বাড়াতে এবার শিলিগুড়ির চারটি গ্রামীণ রাস্তায় টোলগেট

আয় বাড়াতে এবার শিলিগুড়ির চারটি গ্রামীণ রাস্তায় টোলগেট
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শুধু মার্কেট কমপ্লেক্স গড়া নয়, চারটি গ্রামীণ রাস্তায় বসবে টোলগেট। নিজস্ব আয় বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। একই সঙ্গে তারা শিলিগুড়ি শহরের আদলে গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবার মান বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য ছ’টি কমিউনিটি বায়ো টয়লেট তৈরি করবে। চারটি ব্লকে দেওয়া হবে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক। বুধবার অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার কথা জানান সভাধিপতি অরুণ ঘোষ। তাঁর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি কার্যকর করতে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। 
Advertisement
মহকুমা পরিষদের নিজস্ব আয় বাড়ানোর দাবি বহুদিনের। এবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঝাঁপাচ্ছে পরিষদ। এজন্য এদিন অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠকে টোলগেট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, মহকুমা পরিষদের আয়ের মূল উৎস বিল্ডিং প্ল্যানের ভেটিং করা। তা দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। আয়ের থেকে ব্যয় বেশি হচ্ছে। তাই মার্কেট কমপ্লেক্স, পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করে এবং টোলগেট বসিয়ে আয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
সভাধিপতি বলেন, নকশালবাড়ি ব্লকের মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের রকমজোতে প্রায় সাড়ে তিন কিমি লম্বা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা। এজন্য ওই রাস্তায় টোলগেট বসানো হবে। মূলত বালি, পাথর বোঝাই ডাম্পার এবং পণ্য বোঝাই লরি থেকে টোল ট্যাক্স আদায় করা হবে। একইভাবে পাথরঘাটার হালেরমাথা, চম্পাসারি এবং মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিমলনগরে টোলগেট চালু করা হবে। 
উল্লেখ্য, হালেরমাথা ও চম্পাসরিতে টোলগেট চালুর পরিকল্পনা অনেকদিনের। সংশ্লিষ্ট দু’টি এলাকার জন্য টেন্ডার ডেকেও এজেন্সি পায়নি পরিষদ। সভাধিপতি বলেন, এবার হালেরমাথার জন্য ২৪ লক্ষ এবং চম্পাসারির জন্য ১৪ লক্ষ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দু’টি গেটের জন্য টেন্ডার ডাকাও হয়েছে। বাকি দু’টির টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া চলছে। এর বাইরে নকশালবাড়িতে ও বাতাসিতে দু’টি মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে। চারটি ব্লকে ছ’টি পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা হবে। নিজস্ব আয় বাড়াতে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাগুলি নেওয়া হয়েছে। 
এদিকে, উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যের বৃহত্তম শহরগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি অন্যতম। এই শহরে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পরিষেবা, কমিউনিটি টয়লেট পরিষেবা চালু রয়েছে। এবার শহর সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকাতেও সেই ধরনের পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে পরিষদ। সভাধিপতি বলেন, চারটি ব্লকের ছ’টি জায়গায় কমিউনিটি বায়ো টয়লেট তৈরি করা হবে। এজন্য জায়গা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর টয়লেটগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২০০০ লিটারের ছ’টি জলের ট্যাঙ্ক কেনা হবে। যারমধ্যে চারটি ট্যাঙ্ক চারটি বিডিও অফিসে দেওয়া হবে। দু’টি মহকুমা পরিষদে থাকবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেমন সেগুলি ভাড়া দেওয়া হবে তেমনই কোনও গ্রামে পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিলে সেগুলি পাঠানো হবে।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ