Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মারা গেল গুলিবিদ্ধ বালকও, থমথমে মানিকচক, অভিযুক্ত সহ গ্রেপ্তার চার

হোলির রাতে মালদহ জেলার মানিকচকের মথুরাপুরে গুলি চালানোর ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল দুই। বৃহস্পতিবার ভোররাতে মৃত্যু হয় সমর রজক নামে (১৪) গুলিবিদ্ধ এক নাবালকের

মারা গেল গুলিবিদ্ধ বালকও, থমথমে মানিকচক, অভিযুক্ত সহ গ্রেপ্তার চার
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা মানিকচক: হোলির রাতে মালদহ জেলার মানিকচকের মথুরাপুরে গুলি চালানোর ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল দুই। বৃহস্পতিবার ভোররাতে মৃত্যু হয় সমর রজক নামে (১৪) গুলিবিদ্ধ এক নাবালকের। মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সে চিকিৎসাধীন ছিল। এই ঘটনায় ব্যবহৃত একটি দোনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযুক্ত নাবালক সহ দু’পক্ষের মোট চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিন সকাল থেকে গোটা এলাকা থমথমে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সুপার নিজে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। 

Advertisement

মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই ঘটনায় দু’টি এফআইআর হয়েছে। যার উপর ভিত্তি করে মোট চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি লাইলেন্সড দোনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। লাইসেন্সটি কার নামে ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত নাবালকের বাবা সমীর সেনগুপ্তর বুধবার রাতেই মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের পরিবারের তরফে একটা এফআইআর করা হয়েছে। পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে নাবালকের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারের তরফেও আরেকটি এফআইআর করা হয়েছে।  
সমীরের বাড়ির সামনের অংশেই রয়েছে তাঁর রেশন দোকান। বুধবার রাতে রেশন দোকানের বারান্দাতেই বচসা চলে। অভিযোগ, পরে ঘরের ভিতর থেকে দোনলা বন্দুক থেকে গুলি চালায় সমীর সেনগুপ্তের নাবালক ছেলে। এদিন ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়। 
প্রসঙ্গত, মানিকচক থানার মথুরাপুর কাহারপাড়া এলাকায় বুধবার রাতে স্থানীয় রেশন ডিলার সমীর সেনগুপ্তর বাড়িতে তাঁর ছেলেকে নিয়ে বচসা চলে। গুলি চালানোর পর ক্ষিপ্ত জনতার হামলায় গুরুতর জখম হন সমীরবাবু। রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর নাবালক ছেলে গুলি চালানোয় সম্রাট মাহারা নামে এক শিশু সহ কালু রজক, বিষ্ণু রজক ও অরুণ মণ্ডল‌ এবং তাপসী রজক জখম হন। তাঁরা প্রত্যেকেই মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নাবালকের পরিবার বেপাত্তা। যদিও একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামীর মৃত্যুর পর রায়গঞ্জে মেয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছেন অভিযুক্ত নাবালকের মা। সেখানে সমীরবাবুর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এদিকে এদিন বিকেল পর্যন্ত মৃত নাবালকের পরিবারকেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি। • এলাকায় পুলিশের টহলদারি। - নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ