সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: মাটির প্রদীপ, সরা, গ্লাস, ঘট, হাঁড়ি, পুতুল ও ঘোড়া। ডিজিটাল যুগে এগুলি প্রায় অচল। এমন লুপ্ত প্রায় সাত হাজার উপকরণ দিয়ে হায়দারপাড়ায় তৈরি হচ্ছে পুজো মণ্ডপ। থিমের নাম-‘বাংলার মাটি ও শিল্প’। এর পাশেই হাকিমপাড়ায় দেখা মিলবে কম্বোডিয়ার অঙ্করভাট মন্দির। আর পাঞ্জাবিপাড়া সেজে উঠছে আদিবাসী গ্রামের আদলে। থিম-‘আদিগ্রন্থ’। সংশ্লিষ্ট থিমগুলি রূপায়নে ব্যস্ত তিনটি পুজোর উদ্যোক্তারা। তাঁদের প্রত্যাশা, এবার পুজো মণ্ডপগুলি নজর কাড়বে দর্শনার্থীদের।
শিলিগুড়ি শহরে বিগবাজেটের পুজো কমিটিগুলির মধ্যে হায়দরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো অন্যতম। পুজোর ৫৭তম বর্ষে তাদের থিম-বাংলার মাটি ও শিল্প। এই থিমের কারিগর শিল্পী অচিন্ত্য দাস ও স্বপন বসাক। তাঁদের সহযোগিতা করছেন ১২ জন যুবক-যুবতী। তাঁরা বিভিন্ন উপকরণে ছবি আঁকছেন, আলপনা দিচ্ছেন।
শিল্পীরা বলেন, বাঁশ, কাঠ, প্লাই বোর্ডের কাঠামো হবে। তাতে ৫০০টি করে মাটির প্রদীপ ও সরা, আড়াই হাজার গ্লাস, দু’হাজার ঘট, দু’শো হাঁড়ি এবং সাতশো পুতুল, ১৮টি মডেল, ছ’টি ঘোড়া এবং ৮ ফুটের দু’টি বড় ঘট দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরের দেওয়ালে এবং সিলিংয়ে সেগুলির কাজ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে দু’টি বড় ঘট সর্বক্ষণ ঘুরবে। তাতে পালপাড়ার ও কুম্ভকারদের জীবন সংগ্রামের কাহিনী ছবি মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে।
মণ্ডপে থাকবে সবেকি দুর্গা প্রতিমা। আর আলোর মালায় সাজিয়ে তোলা হবে হায়দরপাড়া মেইন রোড। ক্লাবের সম্পাদক নিমাই পাল বলেন, মাটির জিনিসপত্র এখন কার্যত অতীত। সেই শিল্পকলা তুলে ধরে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিতে পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে এই থিম তৈরি করা হচ্ছে। যা দর্শনার্থীদের ভাবিয়ে তুলবে।
এদের পাশেই সূর্য শিখা সমিতি পুজোর প্রস্তুতি শুরু করলেও থিমের বিষয়ে আগাম প্রচারে নারাজ। এই ক্লাবের সম্পাদক চয়ন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, গত বছর পুজোয় নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে থিম করা হয়েছিল। এজন্য পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই এবার কোনো থিমের কথা ভাবিনি।
এদিকে হাকিমপাড়ায় নজরকাড়া পুজো করে জাতীয় তরুণ সংঘ। পুজোর ৫৯তম বর্ষে তাদের নিবেদন-কম্বোডিয়ার অঙ্করভাট মন্দির। বাঁশ, কাঠ, প্লাইবোর্ড দিয়ে মন্দির তৈরির কাজ চলছে। পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা প্রাণতোষ সাহা বলেন, অঙ্করভাট মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ এবার দর্শনার্থীদের প্রশংসা অর্জন করবে। মণ্ডপের ভিতরের ও বাইরের দেওয়ালে থাকবে শীতল পাটির কারুকার্য।
অন্যদিকে, শহরের ঝকঝকে এলাকাগুলির মধ্যে পাঞ্জাবিপাড়া অন্যতম। বহুতল আবাসনে ঘেরা এই পাড়াএ তৈরি হচ্ছে আদিবাসী গ্রামের আদলে মণ্ডপ। এর উদ্যোক্তা জুয়েল অ্যাথলেটিক ক্লাব। ক্লাবের সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, মণ্ডপের প্রবেশ পথে থাকবে আদিবাসীদের মুখের আদলে তৈরি মডেল। মণ্ডপের ভিতরের দেওয়ালে থাকবে আদিবাসীদের জীবন কাহিনী। এই থিমের নাম-‘আদিগ্রন্থ’। • হায়দরপাড়ার মণ্ডপের কাজ চলছে। - নিজস্ব চিত্র।