Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

স্বাভাবিক পদ্ধতিতেই পাঁচ কেজি ওজনের শিশুর জন্ম, আশ্চর্য ঘটনা এনআরএসে

১১ তারিখের বিকেলটা ভুলতে পারবেন না শর্মিষ্ঠা, বিদিশারা। দিন তিনেক আগে ট্যাংরার মেহেরুন্নেসাকে (নাম পরিবর্তিত) ভর্তি করেছিলেন ঠিকই।

স্বাভাবিক পদ্ধতিতেই পাঁচ কেজি ওজনের শিশুর জন্ম, আশ্চর্য ঘটনা এনআরএসে
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ১১ তারিখের বিকেলটা ভুলতে পারবেন না শর্মিষ্ঠা, বিদিশারা। দিন তিনেক আগে ট্যাংরার মেহেরুন্নেসাকে (নাম পরিবর্তিত) ভর্তি করেছিলেন ঠিকই। জানতেন, প্রকাণ্ড এক নবজাতক অপেক্ষা করছে পৃথিবীতে আসার জন্য। কিন্তু চিন্তায় রেখেছে হবু মায়ের ডায়াবেটিস। আবার এত বড় সন্তান বেরিয়ে আসার সময় বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, মাথাটি বেরিয়ে আসে টুক করেই। কিন্তু কাঁধ দু’টি আটকে যায়। সেজন্য ব্যবস্থাপত্রও রেডি। কিন্তু চিন্তাভাবনা করে রাখা এক, আর হাতেকলমে করে দেখানো অন্য এক বিষয়। যুদ্ধের ছবি দেখা আর যুদ্ধে নামার মতো বিষয় অনেকটা! শেষ পর্যন্ত যা ভাবা হয়েছিল, তা-ই হল। সন্তানটির মাথা টুক করে বেরিয়ে এল। আটকে গেল কাঁধদুটো। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘শোল্ডার ডিসটোসিয়া’। সমস্যা যেমন আছে, আছে সমাধানও। ‘ম্যাকরবার্টস ম্যানুভার’ নামের বিশেষ পদ্ধতিতে চাপ দিয়ে বাচ্চাটিকে বের করে আনা হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ওজন মেশিনে সদ্যভূমিষ্ঠ পুত্রসন্তানকে চাপানোর পর চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় লেবার রুমের তরুণ চিকিৎসক-পিজিটি মহলের। ওজনের কাঁটা তিন, চার পার করে ৫ কেজির সামান্য আগে গিয়ে থামল—৪.৮২ কেজি! প্রায় পাঁচই বলা চলে! তাও আবার নর্মাল ডেলিভারিতে। চিকিৎসক মহলে গুঞ্জন, এত ওজনদার শিশুর জন্ম আগে বাংলার সরকারি হাসপাতালে কখনও হয়েছে কি? তাও আবার স্বাভাবিক পদ্ধতিতে!

Advertisement

এন আর এস-এর স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ সমরেশ মালো বলেন, ‘আমার কর্মজীবনে এত বেশি ওজনের সন্তানের প্রসব কখনও করাইনি। স্বাভাবিক প্রসবে রাজ্যের সরকারি ক্ষেত্রে এমন আগে হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। নর্মাল ডেলিভারিই শ্রেষ্ঠ। সবাইকে বলব, স্বাভাবিক প্রসব করানোয় জোর দিন।’ বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি  বিশারদ ডাঃ সুভাষ বিশ্বাস বলেন, ‘এত বেশি ওজনের সন্তানকে নর্মাল ডেলিভারির মাধ্যমে বের করে আনা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। এন আর এস-এর টিমকে অভিনন্দন জানাই। কারণ, ওই সময় মায়ের পেলভিক অংশে প্রচণ্ড চাপ পড়ে।’ যাঁদের নেতৃত্বে এটা সম্ভব হল, তাঁদের অন্যতম হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের (ইউনিট ৪) লেবার রুম ইনচার্জ ডাঃ শর্মিষ্ঠা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যাবতীয় সাবধানতা নেওয়া হয়েছিল। তাও কাজটা অনেক সহজ হয়েছে ওই মায়ের আগের দুই সন্তান নর্মাল ডেলিভারিতে হওয়ায়। তাই ধন্যবাদ-অভিনন্দন মায়েরও কম প্রাপ্য নয়!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ