বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ১১ তারিখের বিকেলটা ভুলতে পারবেন না শর্মিষ্ঠা, বিদিশারা। দিন তিনেক আগে ট্যাংরার মেহেরুন্নেসাকে (নাম পরিবর্তিত) ভর্তি করেছিলেন ঠিকই। জানতেন, প্রকাণ্ড এক নবজাতক অপেক্ষা করছে পৃথিবীতে আসার জন্য। কিন্তু চিন্তায় রেখেছে হবু মায়ের ডায়াবেটিস। আবার এত বড় সন্তান বেরিয়ে আসার সময় বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, মাথাটি বেরিয়ে আসে টুক করেই। কিন্তু কাঁধ দু’টি আটকে যায়। সেজন্য ব্যবস্থাপত্রও রেডি। কিন্তু চিন্তাভাবনা করে রাখা এক, আর হাতেকলমে করে দেখানো অন্য এক বিষয়। যুদ্ধের ছবি দেখা আর যুদ্ধে নামার মতো বিষয় অনেকটা! শেষ পর্যন্ত যা ভাবা হয়েছিল, তা-ই হল। সন্তানটির মাথা টুক করে বেরিয়ে এল। আটকে গেল কাঁধদুটো। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘শোল্ডার ডিসটোসিয়া’। সমস্যা যেমন আছে, আছে সমাধানও। ‘ম্যাকরবার্টস ম্যানুভার’ নামের বিশেষ পদ্ধতিতে চাপ দিয়ে বাচ্চাটিকে বের করে আনা হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ওজন মেশিনে সদ্যভূমিষ্ঠ পুত্রসন্তানকে চাপানোর পর চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় লেবার রুমের তরুণ চিকিৎসক-পিজিটি মহলের। ওজনের কাঁটা তিন, চার পার করে ৫ কেজির সামান্য আগে গিয়ে থামল—৪.৮২ কেজি! প্রায় পাঁচই বলা চলে! তাও আবার নর্মাল ডেলিভারিতে। চিকিৎসক মহলে গুঞ্জন, এত ওজনদার শিশুর জন্ম আগে বাংলার সরকারি হাসপাতালে কখনও হয়েছে কি? তাও আবার স্বাভাবিক পদ্ধতিতে!



