Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাস্তার ধারে বসেই দেড়খানা রুটি ও তরকারি খাওয়ার স্মৃতি আঁকড়ে ৫০ বছরের সহযোগী! মৃত্যুর পাঁচ বছর পরও বালিগঞ্জ মজে সুব্রততে

সবার কাছে একডালিয়া এভারগ্রিন। স্থানীয়দের কাছে গত ৫ বছর ধরে আর একটি নাম ‘সুব্রত মুখার্জি স্মৃতিভবন’। সবার কাছে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী, মেয়র, ঝানু রাজনীতিবিদ, রসিক-ঠান্ডা মাথার মানুষ, প্রিয়-সুব্রত জুটির অন্যতম। আর বালিগঞ্জের মানুষের কাছে বর্ণময় চরিত্র। খাদ্যরসিক মানুষ। আড্ডাবাজ প্রাণ।

রাস্তার ধারে বসেই দেড়খানা রুটি ও তরকারি খাওয়ার স্মৃতি আঁকড়ে ৫০ বছরের সহযোগী! মৃত্যুর পাঁচ বছর পরও বালিগঞ্জ মজে সুব্রততে
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সবার কাছে একডালিয়া এভারগ্রিন। স্থানীয়দের কাছে গত ৫ বছর ধরে আর একটি নাম ‘সুব্রত মুখার্জি স্মৃতিভবন’। সবার কাছে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী, মেয়র, ঝানু রাজনীতিবিদ, রসিক-ঠান্ডা মাথার মানুষ, প্রিয়-সুব্রত জুটির অন্যতম। আর বালিগঞ্জের মানুষের কাছে বর্ণময় চরিত্র। খাদ্যরসিক মানুষ। আড্ডাবাজ প্রাণ। 

Advertisement

ভোটে দাঁড়িয়েছেন ডান বাম নির্বিশেষে ‘সজ্জন’ রাজনীতিবিদদের অন্যতম  তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু আজও, ভোটের দিনেও বালিগঞ্জ মজে পাঁচবারের বিধায়ক সুব্রত মুখোপাধ্যায়ে। হ্যাঁ, ৫ বছর আগে প্রয়াত হওয়ার পরও! কতটা বেঁচে আছেন, বুধবার বোঝা গেল একডালিয়া ক্লাবে তাঁর বসবার চেয়ার-টেবিল নিকানো উঠোনের মতো পরিষ্কার দেখে। বোঝা গেল, তাঁর প্রাণখোলা হাসিমুখ বিশাল ছবি টেবিলের সামনে রাখা দেখে। এই বুঝি স্বভাবসিদ্ধ ফ্যাসফেসে গলায় সহযোগীদের ডাক দেবেন আর সঙ্গে ঠোঁটের কোণে থাকবে সকলকে ‘কাত’ করা মুচকি হাসি! 
সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ৫০ বছরের সহযোগী আর ১১টি নির্বাচনি লড়াইয়ের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী (অধিকাংশ সময় চিফ ইলেকশন এজেন্ট) স্বপন মহাপাত্র বললেন, রাজনীতি পালটাচ্ছে। সুব্রতদা ভোটের খাবাবের অর্ডার দিলে হাঁক পাড়তেন, ‘দেখ রে, রবিন দেবের ছেলেগুলির খাওয়াদাওয়া হয়েছে? এখন পরিবেশটাই প্রফেশনাল নির্মম হয়ে গিয়েছে।’ 
নিমেষে পুরানো ভোটের দিনে ফিরে স্বপনবাবু বললেন, ‘দিনভর পার্টি অফিসেই কাটাতেন। কচুরি-সিঙাড়া আনিয়ে নিতেন। দুপুরে দাদার প্রিয় ছিল কাতলা মাছ, ছোট মৌরলা মাছ, কচি পাঠার মাংস, বেগুন ভাজা আর পোস্ত।’
যেন চোখের সামনে ঘটনাগুলি দেখছেন এভাবে একডালিয়া এভারগ্রিনের এই জেনারেল সেক্রেটারি বলে গেলেন, ‘সমর্থকদের গায়ে হাত পড়লে ভয়ংকর হয়ে উঠতেন এই রসিক মানুষটিই। ১৯৮৭ সালে ২৩ মার্চ। জোড়াসাঁকোর মাড়োয়ারি বালিকা বিদ্যালয়ে সিপিএম তুমুল রিগিং করছে। ভয়ে আমাদের ছেলেরা কাছে যেতে পারছে না। সুব্রতদা তিনতলায় উঠলেন। রিগিং হওয়া ভোটবাক্সটা একতলায় ছুড়ে ফেলে দিলেন। ওইদিনই খিদেয় চো চো পেটে আমরা দুজনে রাস্তার ধারে বসে দেড়খানা রুটি আর বাঁধাকপির তরকারি খেয়েছিলাম।’
এবারের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেববাবু বললেন, ‘সুব্রত ছিল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু এখন ও বা ওঁর পরিবারের কেউ তো প্রার্থী নন, আমার লড়াইটা আমার মতো করেই করেছি। আর এবার আমি জিতছি। বিজেপি প্রার্থী ডঃ শতরূপার অবশ্য দাবি, ‘৮৭ শতাংশ পোলিংয়ের বেশিরভাগটাই আমাদের দিকে গিয়েছে।’      

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ