অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: অভিরাম পাল চাষাবাদ করতেন। তাঁদের দিনযাপন সাধারণ। কোনোরকমে চলত সংসার। পারিবারিক চাষের জমি ছিল সামান্য। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে চাষ করতেন। বাস করতেন কুঁড়েঘরে। শরতের এক সকাল। মহালয়া। অভিরাম ও তাঁর স্ত্রী বাড়ির কাছে জমিতে চাষ করছেন। দেখতে পেলেন দুর থেকে এক মহিলা আসছেন। সঙ্গে দু’টি মেয়ে ও দু’টি ছেলে। মহিলা কাছে এলেন। অভিরামের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মা পালবাড়ি আর কতদূর? আমি অনেক দূর থেকে আসছি।’ উত্তর দিলেন স্ত্রী। ‘বেশি দূরে নয়। ওই কাছেই। ওই যে বাড়ি। দেখাও যাচ্ছে। গাছপালা ঘেরা জায়গা। তার মধ্যে দিয়ে বাচ্চাগুলোকে নিয়ে ধীরে হাঁটা শুরু করলেন মহিলা। অভিরামরা তার কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরলেন। বাড়িতে ছিলেন তাঁর পুত্রবধূরা। ‘কেউ এসেছিল?’ শুধালেন অভিরাম। সবাই বললেন, ‘কেউ আসেনি তো।’ তা শুনে অভিরাম ও তাঁর স্ত্রী খানিক অবাকই হলেন। সেই রাতেই দুর্গা অভিরামের স্বপ্নে দেখা দিলেন। দেবী স্বপ্নাদেশে বলেন, ‘তোদের বাড়িতে আসতে চাই।’ কিন্তু অভিরাম গরিব। হাজার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য নেই। ফলে মনে দুঃখ নিয়ে হাত গুটিয়েই রইলেন বসে। কয়েকদিন পর আবারও স্বপ্নে দেখা দিলেন দুর্গা। দেবী এবার বললেন, ‘তালপাতার ছাউনি করে থোড় দিয়ে পুজো দিবি।’ তার পরের দিনই হঠাৎ নিজে থেকে হাজির এক প্রতিমাশিল্পী। একটা টাকাও না নিয়ে দুর্গার মূর্তি দিলেন গড়ে। আরও আশ্চর্য, ঘাটাল থেকে পৌঁছল ডাকের সাজ।



