অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: দ্রুত গতিতে এগচ্ছে নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট অরেঞ্জ লাইন মেট্রো প্রকল্পের কাজ। রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পর জট কেটেছে চিংড়িঘাটার। ওই প্রকল্পে হলদিরাম সিগন্যালের কাছে এবার তৈরি হবে মেট্রোর নতুন দু’টি পিলার। তার জন্য একমাসের বেশি সময় আংশিক বন্ধ রাখতে হবে ভিআইপি রোড। এটি অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা। কলকাতা থেকে এয়ারপোর্ট এবং শহরতলির সঙ্গে মহানগরের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। তাই আংশিক বন্ধ থাকলেও তৈরি হবে যানজট। দুর্ভোগে পড়বে সাধারণ মানুষ। সেই সমস্যা সমাধানে এবং কাজ চলাকালীনও যাতে গাড়ি চলাচল সচল থাকে, তার জন্য হলদিরামে ভিআইপি রোডের পাশে তৈরি হচ্ছে ১৭৫ মিটার লম্বা একটি বিকল্প রাস্তা। তা দিয়ে চলবে গাড়ি।
প্রসঙ্গত এয়ারপোর্টের কাছে অরেঞ্জ লাইনের শেষ অংশে মেট্রোর বক্স-পুশিং টানেলিংয়ের কাজ চলছে। তার জন্য এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে যে গাড়িগুলি কলকাতার দিকে যাচ্ছে, সেই অংশ বন্ধ রাখা হবে। তার জন্য ‘এআই গেট’ দিয়ে পাঁচিলের ভিতর দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা হয়েছে। ওই এলাকায় প্রকল্পের কোনো সমস্যা নেই। হলদিরাম সিগন্যালের কাছে চিনার পার্কের দিকে মেট্রোর পিলার আছে। কলকাতামুখী ও এয়ারপোর্টমুখী দু’টি লেনের মিডিয়ান ডিভাইডারের কাছে হবে দু’টি পিলার। সে দু’টি ফ্লাইওভারের উপর পর্যন্ত হবে। ফ্লাইওভারের উপরেই দু’টি পিলারের মাঝখানে গার্ডার বসবে।
পিলার তৈরি করার জন্য কলকাতামুখী এবং এয়ারপোর্টমুখী দু’টি লেনের আংশিক রাস্তা বন্ধ রাখতে হবে। তাই আরভিএনএল কর্তৃপক্ষ, ট্রাফিক পুলিশ এবং পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা বৈঠক করেছেন। জানা গিয়েছে, এক-একটি পিলার তৈরি করার জন্য ১০-১২ মিটার চওড়া জায়গা লাগবে। অর্থাৎ ওই এলাকায় ভিআইপি রোডের বেশিরভাগ অংশই থাকবে বন্ধ। কাজ চলবে প্রায় ৪৫ দিন। তার মধ্যে হলদিরাম সিগন্যালের কাছেই কলকাতামুখী ভিআইপি রোডের পাশে এবং চিনারপার্কগামী সার্ভিস রোডের মাঝখানে বেশ কিছুটা জায়গা ছিল। সেই জায়গায় ১৭৫ মিটার নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। পূর্তদপ্তর কাজ করছে। এখন রাস্তার নীচের অংশ খোঁড়া হয়েছে। পাইপ লাইন বসানো চলছে। তারপর উপরে কংক্রিট ও বিটুমিনাসের কাজ হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন রাস্তায় কলকাতামুখী সব গাড়ি যাবে। এছাড়াও প্রয়োজনে এয়ারপোর্টমুখী কিছু গাড়িকে নতুন রাস্তা ও আংশিক বন্ধ পুরনো রাস্তা দিয়ে পার করানো হবে। তারপর আবার ভিআইপি রোডে ছাড়া হবে। এয়ারপোর্টমুখী সার্ভিস রোডেও গাড়ি পাশ করানো হবে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, গাড়ি চলাচল সচল রাখতেই নতুন রাস্তাটি তৈরি হচ্ছে। তবে রাস্তা তৈরির পর ডাইভারশনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে। ছবি: শান্তনু বিশ্বাস