নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক অভিসন্ধি পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করছে মোদি সরকার। বিরোধীদের এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র মামলার পরিসংখ্যান হাতিয়ার করে সুর চড়ালেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাকেত গোখেল। শনিবার তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ইডি যত মামলা দায়ের করেছে, তার ৯৮ শতাংশই ক্ষেত্রেই নিশানায় বিরোধীরা। সাকেতের কটাক্ষ, বাকি ২ শতাংশ মামলাও বিরোধী দলগুলিরই প্রাক্তন নেতাদের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁরা নিজেদের দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আর গেরুয়া শিবিরের ওয়াশিং মেশিনে ঢুকে সমস্ত দুর্নীতি ধুয়ে ফেলে ‘শুদ্ধ’ হয়ে গিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ইডির ডিরেক্টর রাহুল নবীন বলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পরই ইডির দপ্তরে উল্লেখযোগ্যভাবে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই কটাক্ষ করেন গোখলে। বৃহস্পতিবার ইডি দিবসে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নবীন। সেখানে তিনি বলেন,‘২০১৪ সালের আগে আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইন নিষ্ক্রিয় ছিল। সেভাবে কাজেই লাগানো হত না এই আইনকে। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। ইডির দপ্তরে মামলার সংখ্যা ক্রমে বেড়েছে।’ ইডি ডিরেক্টরের এই মন্তব্যকে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তীক্ষ্ণ ভাষায় বিঁধেছেন সাকেত। তিনি বলেছেন, ইডির ডিরেক্টর নিজেই স্বীকার করেছেন মোদি জমানায় মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি এবার দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে, বিরোধীদের দমন করতে তদন্তকারী সংস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে মোদি সরকার। সাকেতের কথায়, গত ১১ বছরে ইডির তরফে ৫ হাজার ২৯৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে মাত্র ৪৭টি মামলা। এক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়ার হার মাত্র ০.৭ শতাংশ। প্রতি ১ হাজার মামলায় মাত্র সাতটিতেই অভিযুক্ত দোষী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বাকি ৯৯৩টি মামলা করার লক্ষ্য হল অভিযুক্তকে জেলে বন্দি রাখা। ভয় দেখিয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ করতেই এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করছে মোদি সরকার।