Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়িতে শুনানির পরও ৯৫ বছরের বৃদ্ধার নাম বাতিল

এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাড়ি বাড়ি ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি থেকে তা ডিজিটাইজ করা সবই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন বিএলওরা। অথচ কাটোয়া-১ ব্লকে দু’জন বিএলওর নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে

বাড়িতে শুনানির পরও ৯৫ বছরের বৃদ্ধার নাম বাতিল
  • ১ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাড়ি বাড়ি ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি থেকে তা ডিজিটাইজ করা সবই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন বিএলওরা। অথচ কাটোয়া-১ ব্লকে দু’জন বিএলওর নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। তাঁরা আদৌ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। চরম আতঙ্কে রয়েছেন বিএলওরা। এমনকি, পূর্বস্থলীর এক পঞ্চায়েত প্রধানের নামও বাতিল হয়ে গিয়েছে। এহেন ঘটনায় মহকুমাজুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

Advertisement

পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের চরম অন্যায়। এরজন্যই আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করছেন।
কাটোয়া-১ ব্লকের ১০নম্বর বুথের বিএলও আতিয়ার রহমান এবং ১২নম্বর বুথের বিএলও আয়েশা খাতুনের নাম বিচারাধীনের তালিকায় রয়েছে। জানা গিয়েছে, খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের হরিপুর গ্রামের ১০ নম্বর বুথের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান সুদপুর উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ওই বুথে ভোটার রয়েছেন ১১৬০ জন। তাঁকে দ্বিতীয় পর্যায়ে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তার কারণ, কমিশনের অ্যাপে এআইয়ের সমস্যার কারণে আতিয়ার সাহেবের পুরো নাম আসেনি। তাঁর মায়ের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা হয়েছিল। আতিয়ার সাহেব বলেন, এর কোনো মানে হয়? আমি বিএলও হয়ে সমস্ত প্রমাণপত্র দাখিল করেছিলাম। তাও আমার নাম বিচারাধীনের তালিকায় এসেছে। আমার বুথে ২৬৮ জনের নাম বিচারাধীনের তালিকায় এসেছে।
অন্যদিকে, কাটোয়ার পানুহাট এলাকায় ১২নম্বর বুথের বিএলও আয়েশা খাতুনের নামও বিচারাধীনের তালিকায় এসেছে। তিনি পেশায় কেতুগ্রামের হোসেনপুর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। তাঁরা ছয় বোন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বাবাকে ছ’জনই পিতা হিসাবে দাবি করেন। তাই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। আয়েশা খাতুন বলেন, এটা পুরো চক্রান্ত করে করা হয়েছে।
এদিকে, বাড়ি গিয়ে শুনানির পরও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল কাটোয়ার ৯৫ বছরের এক বৃদ্ধার। শনিবার তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা যায়, কাটোয়া শহরের ১৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধা সুবর্ণবালা দে-র নাম বাদ গিয়েছে। তিনি ১১৫নম্বর বুথের ভোটার। ৩৬৭ নম্বর সিরিয়ালে তাঁর নাম ছিল। কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বসু বলেন, ওই বৃদ্ধার নো-ম্যাপিং ছিল। শুনানিতে যে নথি জমা দেওয়ার কথা, তা উনি দিতে পারেননি। তবে, চিন্তা নেই। ৬নম্বর ফর্মে আবেদন করলেই আমরা ভোটার তালিকায় ওঁর নাম তুলতে পারব।
ওই বৃদ্ধার প্রশ্ন, এই বয়সে আবার নতুন করে কেন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে যাব? ২০০২ সালের তালিকায় আমার নাম থাকা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ যাবে?
অন্যদিকে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল পূর্বস্থলী-২ ব্লকের মেড়তলা পঞ্চায়েতের প্রধান সন্তোষী দাসের। তালিকায় ৬০৫নম্বর ক্রমিক সংখ্যায় তাঁর নাম ছিল। বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ৬নম্বর ফর্মের মাধ্যমে আমরা ওই প্রধানের নামে আবার আবেদন করব। কাটোয়া, কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোটের তিন বিধানসভা এলাকায় মোট ৩৯৬৭ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। আর তিন বিধানসভায় বিচারাধীনের তালিকায় রয়েছেন ৯১ হাজার ২০০ জন ভোটার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ