অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় বিচারাধীন ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার প্রবণতা বেশ বেশি। প্রথম এবং দ্বিতীয়— দু’টি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের প্রায় ৯৫ শতাংশেরই নাম বাদ পড়েছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত প্রথম ও দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় মোট প্রায় ৭,৯০০ জন বিচারাধীন নাম নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭,৪০০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। অন্যদিকে, নাম উঠেছে মাত্র প্রায় ৪৫০ জনের। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিধানসভায় মোট বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১২,৭০০। অর্থাৎ, এখনও প্রায় ৫,০০০ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। সব থেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের ভাতজাংলা পঞ্চায়েতে। তৃণমূলের দখলে থাকা এই পঞ্চায়েত এলাকাতেই এখনও পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই পঞ্চায়েতের একাধিক বুথ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ভাতজাংলা পঞ্চায়েতেই বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন হাজারের কাছাকাছি। এমনিতেই গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে এই পঞ্চায়েতেই পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল। তার উপর নাম বাদ যাওয়ার প্রবণতা ভাবাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে। পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান খোকন মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছেন। আমরাও মানুষের পাশে আছি।’ দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বুথভিত্তিক যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভাতজাংলা পঞ্চায়েতের ১৬৫ নম্বর বুথে একাই ৪০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। ১৬৪ নম্বর বুথে বাদ গিয়েছে ২৫৩ জনের নাম, ১৬৬ নম্বর বুথে ১৯৮ জন এবং ১৭১ নম্বর বুথে ১০৩ জনের নাম কাটা পড়েছে। ভাতজাংলা পঞ্চায়েতের ঝিটকেপোতার বাসিন্দা জিয়ারুল মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, সব নথিপত্র জমা দিয়েছিলাম। পাসপোর্ট, স্কুল সার্টিফিকেট— সবই দিয়েছিলাম। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার মা-বাবার নাম আছে। আমার দাদুর নাম ১৯৫২ সালের ভোটার তালিকাতেও রয়েছে। তবুও আমার নাম বাদ পড়েছে। শুধু আমি নই, আমাদের চার ভাই এবং তিন বোনের নামও বাদ দিয়েছে।’ একই সুর শোনা গিয়েছে এলাকার আর এক বাসিন্দা জাহিদুল মণ্ডলের গলাতেও। তাঁর কথায়, আমাদের মা-বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আছে। এবারের নতুন তালিকায়ও তাঁদের নাম রয়েছে। আমি মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেট, জাতিগত শংসাপত্র, পাসপোর্ট— সব জমা করেছিলাম। তারপরেও আমার নাম বাদ দিয়েছে। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় মোট ১২৪টি বুথে নাম অন্তর্ভুক্তি এবং নাম বাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, একমাত্র এই দ্বিতীয় তালিকাতেই মোট প্রায় ৬,২০০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এর আগে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ৪০টি বুথে মোট প্রায় ১,২০০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল।



