সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: ‘ম্যানমেড’ অগ্নিকাণ্ডে একটু একটু করে পুড়ছে ডুয়ার্সের জঙ্গল। শুখা মরশুমে অল্প আগুনই ছড়িয়ে পড়ছে জঙ্গলের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। চৈত্রের হাওয়ায় তা রূপ নিচ্ছে দাবানলের মতোও। দিন কয়েক থেকে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে চালসা রেঞ্জের পানঝোরা জঙ্গল, লাটাগুড়ি রেঞ্জের লাটাগুড়ি জঙ্গলে। রোজ বনে আগুন ধরে যাচ্ছে। পুড়ছে গাছ। ক্ষতি হচ্ছে কীট পতঙ্গ থেকে শুরু করে নানা বন্য প্রাণীরও। বন ও বন্য প্রাণী সামলানোর পাশাপাশি বনে অগ্নিকান্ড হলে তা বাড়তি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে বনদপ্তরের কাছেও। বনে আগুন লাগার মতো ঘটনা রুখতে আরও কড়া নজরদারি চালানোর দাবি উঠছে।
জঙ্গলে অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। প্রতিবছরের ফাল্গুন-চৈত্রে এই ঘটনা ঘটে চলে। তবে এবছর কিছুটা হলেও যেন বেশি, মনে করছেন বনবস্তিবাসীরাও। কিছুটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হলেও ৯৫ শতাংশ আগুন মানুষের দ্বারা বলে খোদ বনকর্তারা মনে করছেন। গোরু চড়াতে আসা রাখালরাই শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে চলে যাচ্ছে বলে সামনে উঠে এসেছে। চৈত্র মাসে গাছের পাতা শুকিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে। সামান্যতম আগুন লাগলেই তা জঙ্গলে ছড়াতে থাকে। আগুন নেভাতে হিমসিম খেতে হয় বনদপ্তরকে। সেই আগুন নেভাতে দমকল বিভাগের দ্বারস্থ হতে হয়। কিন্তু বিকেলে আগুন লেগে গেলে সেই আগুন দাবানলের ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ বনবস্তি এলাকা থেকে প্রতিদিন বহু গোরু-মোষ চড়াতে রাখালরা জঙ্গলে প্রবেশ করে। শুখা মরশুমে জঙ্গলে শুকনো পাতায় ঢেকে যাওয়ায় গোরু-মোষের খাদ্যের অভাব হয়ে যায়। এই সময় রাখালরা জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দেয়। যার জেরে বারবার অগ্নিকাণ্ড। এই ব্যাপারে গোরুমারা ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের এডিএফও রাজীব দে বলেন, জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দেয় রাখালরা। তারা তাদের সুবিধার জন্য এই কাজটি করে থাকে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেমন বজ্র-বিদ্যুৎ পড়েও অনেক সময় জঙ্গলে আগুন ধরে যায়। তবে এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে। তবে ৯৫ শতাংশ আগুন লাগার কারণ মানুষই।