Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ফের বালোচ বিদ্রোহ, আত্মঘাতী হানায় হত ৯০ পাকিস্তানি সেনা

ফের বালোচ বিদ্রোহ, আত্মঘাতী হানায় হত ৯০ পাকিস্তানি সেনা
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ: সাতটি বাস ও দু’টি জিপ। বালুচিস্তানের রাজধানী কোয়েট্টা থেকে তাফতানের দিকে এগিয়ে চলেছে পাকিস্তানি সেনার কনভয়। নৌশকি পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু আরসিডি হাইওয়ের উপর রাকশান মিলের কাছে পৌঁছতেই কনভয়ে সজোরে এসে ধাক্কা মারল একটি গাড়ি। মুহূর্তে এলাকা কাঁপিয়ে বিস্ফোরণ। উড়ে গেল গোটা একটি বাস! চারপাশে কালো ধোঁয়া। কনভয়ের অন্যান্য বাসে থাকা জওয়ানদের সম্বিত ফেরার আগেই ধেয়ে এল ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি। ট্রেন হাইজ্যাকের এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও পাক সেনার উপর হামলা বালোচ বিদ্রোহীদের। রবিবার এই অপারেশন চালিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র আত্মঘাতী স্কোয়াড মজিদ ব্রিগেড। গোটা ঘটনায় পুলওয়ামা হামলার ছায়া দেখতে পাচ্ছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। বিদ্রোহীদের দাবি, অন্তত ৯০ জন পাকিস্তানি সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও তা মানতে রাজি নয় ইসলামাবাদ। আত্মঘাতীর হামলার কথা স্বীকার করে তারা জানিয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত সাত জন জওয়ান। জখমের সংখ্যা ২১। হামলার কড়া নিন্দা করেছেন বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।

Advertisement

পাকিস্তানি সেনার শীর্ষ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে কনভয়ের একটি বাসে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। রকেট প্রপেলড গ্রেনেড দিয়ে অন্য একটি বাসকেও নিশানা করে আত্মঘাতী জঙ্গিরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়েছে সেনার হেলিকপ্টার। সেটিতে করেই জখম সেনা-জওয়ানদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। এলাকায় নজরদারি বাড়াতে ড্রোন মোতায়েন করেছে প্রশাসন। নৌশকি থানার এসএইচও জাফারুল্লা সুলেমানি জানান, ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত সপ্তাহে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক করে নিয়েছিল বালোচ বিদ্রোহীরা। সেই ট্রেনে ছিলেন পাক সেনা এবং আইএসআইয়ের একাধিক সদস্য। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলে দু’তরফে। সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই এদিনের আত্মঘাতী হামলা। এদিন অপারেশনের পরই দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে বিএলএ। তাদের দাবি, পাক সেনার কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আত্মঘাতী হামলায় দক্ষ মজিদ ব্রিগেড। বিস্ফোরণের জেরে কনভয়ে থাকা আটটি বাসের মধ্যে একটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আর একটি বাসকে ঘিরে ধরে সমস্ত সেনাকে খতম করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৯০।
শনিবার থেকেই একাধিক স্থানে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা। গদর শহরের উপকূলরক্ষী বাহিনীর মেইন ক্যাম্পের সিকিওরিটি চেক পয়েন্টে বিএলএ-র গুলিতে দুই রক্ষী জখম হন। বিদ্রোহীদের আর একটি স্কোয়াড অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় গদর এয়ারপোর্ট রোডে সেনার চেকপোস্টে। ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও মুসতাং, জমরান ও কোনওয়াতে সেনা-পুলিসের দপ্তর, ক্যাম্প ও চেকপোস্টে হামলা চলেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ