সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: শ্যামনগরের কালীবাড়ি ব্রহ্মময়ী মায়ের মন্দির বলে পরিচিত। মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এখানে কালীর ছবি তোলা যায় না। বিয়ের জন্য অনেকে যান মন্দিরে। অসংখ্য দম্পতির বিয়ে হয়েছে এখানে। এখন শ্যামার পুজোর আয়োজন চলছে জোরকদমে।
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: শ্যামনগরের কালীবাড়ি ব্রহ্মময়ী মায়ের মন্দির বলে পরিচিত। মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এখানে কালীর ছবি তোলা যায় না। বিয়ের জন্য অনেকে যান মন্দিরে। অসংখ্য দম্পতির বিয়ে হয়েছে এখানে। এখন শ্যামার পুজোর আয়োজন চলছে জোরকদমে।
সোমবার ২১৩ বছরের ইতিহাস শোনালেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নিমাই চট্টোপাধ্যায়। রাজা গোপীমোহন ঠাকুরের কন্যা ব্রহ্মময়ীকে পাথুরিয়াঘাটাতে গঙ্গাস্নান করাতে নিয়ে গিয়েছিল পরিবার। তখন বাল্যবিবাহ হতো। গঙ্গায় ডুব দিয়ে আর ওঠেনি ব্রহ্মময়ী। রাজা শোকে প্রায় পাগল হয়ে যান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের সদস্য ছিলেন তাঁরা। এরপর স্বপ্নাদেশে রাজাকে কালী বলেন, আমি শ্যামনগরের গঙ্গার ধারে মূলাজোড়ে জঙ্গলের মধ্যে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে রয়েছি। আমাকে প্রতিষ্ঠা কর। এরপর গঙ্গা দিয়ে বজরা করে এসে এই জায়গা খুঁজে রাজা জঙ্গলের মধ্যে কালীর মূর্তি পান। তারপর মন্দির তৈরি করে দেবীর প্রতিষ্ঠা করেন। সঙ্গে বাণেশ্বর শিবের ও রাধাকৃষ্ণ মন্দিরও করেন। সেই থেকে নিত্যপুজো হচ্ছে। প্রধান পুরোহিত পূর্বপুরুষদের মুখে শুনেছেন, একদিন গঙ্গা দিয়ে সাধক কবি রামপ্রসাদ যাচ্ছিলেন শ্যামাসঙ্গীত গাইতে গাইতে। সে সময় কালী তাঁকে বলেন, আমাকে গান শুনিয়ে যা। রামপ্রসাদকে দেখতে কালী দক্ষিণ দিক থেকে পশ্চিমমুখী হয়ে যান। তারপর সবসময় তিনি গঙ্গামুখী।
চার রকমের মাছ দিয়ে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়
কালীকে। রুই, কাতলা, শোল, কই মাছ থাকে। সোমবার দীপান্বিতা পুজো হবে সন্ধ্যায়। ভাত, ডাল, পাঁচ রকমের ভাজা আর সবজি, পাঁচ রকমের মাছ, চাটনি, মিষ্টি, দেওয়া হবে। এখানে পৌষ
মাসে মুলো দিয়ে পূজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের ঢল নামে। অনেকে পুজো দিয়ে মুলো খান।
মেলা হয়। মন্দিরের গা লাগোয়া টোল ছিল একসময়। যেখানে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের দাদা এসে পড়াশোনা করতেন। এখনও মন্দিরের ইতিহাস মানুষের মুখে মুখে ঘোরে। কালীপুজোর সময় কলকাতা থেকেও বহু মানুষ আসেন। অঞ্জলি দেন। রাতভর প্রসাদ বিতরণ হয়। শ্যামনগর স্টেশনের কাছে চৌরঙ্গী কালী বাড়ি। কিছু দূরে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির। সেখানেও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়।