নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ওড়িশার ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবার বিজেপিশাসিত ছত্তিশগড়ে। আইনের অপব্যবহার করে বাংলার ন’জন পরিযায়ী শ্রমিককে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল। তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি থানারপাড়া থানার মথুরাপুর এলাকায়। যদিও এখনও পর্যন্ত আটজন পরিযায়ী শ্রমিকের পরিচয় জানা গিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এনিয়ে সরব হন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিও বার্তায় তিনি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় সাংসদ বলেন, পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের জেলে বন্দি রাখা হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার কিংবা শ্রমিকের বাড়ির লোকজনকে এব্যাপারে কিছুই জানায়নি ছত্তিশগড় পুলিস। ম্যাজিস্ট্রেটের তরফ থেকে পুলিসের কাছে কোনও অর্ডার কপিও আসেনি। তিনি আরও বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিস সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তাঁর উত্তর শুনে আমি স্তম্ভিত। ওই এলাকায় নাকি আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণে অভিযুক্ত ছিল পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাই ভেরিফাই করার জন্যই পরিযায়ী শ্রমিকদের তুলে আনা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শ্রমিকরা ছত্তিশগড় রাজ্যের কোন্দাগাঁও জেলায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন। গত রবিবার হঠাৎ সেই এলাকায় পুলিস এসে তাঁদের তুলে নিয়ে যায়। তাঁদের সকলের কাছেই পরিচয়পত্র ছিল। পুলিসের তরফ থেকে তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি, নদীয়া জেলায় কালীগঞ্জ ও নাকাশিপাড়া থানা এলাকার প্রায় ৪০জন পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশার অঘোষিত ডিটেনশন ক্যাম্পে টানা পাঁচদিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও তাঁদের ছাড়া হয়নি। টানা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাঁদের ছাড়া হয়েছে। বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে ১৯৭৫সালের জমির দলিলও চাওয়া হয়েছিল। যদিও পুলিসের দাবি, কাউকেই সন্দেহের বশে এভাবে দিনের পর দিন আটকে রাখা বেআইনি। এনিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। ছত্তিশগড়ে বিএনএসের ১২৮ধারা অনুযায়ী ন’জন পরিযায়ী শ্রমিককে জেলে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।