নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ ১১ জন কাউন্সিলার ইস্তফা দিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। মঙ্গলবার পদত্যাগ করলেন পুরসভার আরও ন’জন তৃণমূল কাউন্সিলার। সূত্রের খবর, আজ বুধবার আরও পাঁচজন কাউন্সিলার পদত্যাগ করতে পারেন। ফলে বারাসত পুরসভায় এবার প্রশাসক বসা শুধু সময়ের অপেক্ষা। এ নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বারাসত পুরসভায় মোট ৩৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। এরমধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ৩২টি। সিপিএমের দখলে দু’টি এবং সিপিআইয়ের দখলে রয়েছে একটি ওয়ার্ড। পালাবদলের পর পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ ১১ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁরা পদত্যাগ করায় পুরবোর্ড ভেঙে যায়। নতুন করে বোর্ড তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। অনেকে নতুন সমীকরণের অপেক্ষাতেও ছিলেন। কিন্তু দ্রুত পট-পরিবর্তন হতে শুরু করে।
গত সপ্তাহে তৃণমূলের দুই মহিলা কাউন্সিলার শিল্পী দাস ও তন্বিষ্ঠা খাসনবিশের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় পুরসভায় গিয়ে এগজিকিউটিভ অফিসার সহ অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে বৈঠক করেন। তৃণমূল জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি সহ বিল্ডিং প্ল্যান পাশের ক্ষেত্রে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সরব হয়েছিলেন। বিল্ডিং প্ল্যানের তালিকা তৈরি করে অনিয়ম খতিয়ে দেখার কথাও বলেছিলেন। বিজেপির সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে মণ্ডল সভাপতিরা দলবল নিয়ে পুরসভায় ঢুকে নানা বিষয়ে কৈফিয়ত চাইতে শুরু করেন। ত্রাণের ত্রিপল উদ্ধার হওয়ায় কাউন্সিলারদের ‘চোর চোর’ স্লোগান পর্যন্ত শুনতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ন’জন তৃণমূল কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগী কাউন্সিলাররা হলেন সুমিত সাহা, তন্বিষ্ঠা খাসনবিশ, শিল্পী দাস, সমীর কুণ্ডু, মৌসুমি তালুকদার, স্বপ্না বসু, কণিকা রায়চৌধুরী, অরুপ পাইন ও নীলিমা মণ্ডল।
শিল্পী দাস বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কাজ করার পরিবেশ নেই। আমি চাই, বারাসতের মানুষ আরও উন্নত মানের নাগরিক পরিষেবা পান। তাই পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগী আরেক কাউন্সিলার সুমিত সাহা বলেন, ব্যক্তিগত কারণে আমি কাউন্সিলার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, বারাসত পুরসভা নাগরিকদের পরিষেবা দিতে ব্যর্থ। দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে। মানুষকে কৈফিয়ত দিতে হবে, এই ভয়ে তৃণমূলের কাউন্সিলাররা ওয়ার্ডে যাচ্ছেন না। এখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে পদত্যাগ করছেন। পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসক বসিয়ে নাগরিক পরিষেবা সচল রাখা হবে।