নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘সোনা কোথায়?’ পুলিশের প্রশ্নে উত্তর, ‘খুবই অল্প পেয়েছি স্যার,’ এই বলে, হাতে কোদাল দিয়ে মাটিতে কোপ। বেরিয়ে এল একটি আংটি ও বালা। কিন্তু দোকানদারের অভিযোগ, সবমিলিয়ে চুরির গয়নার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকারও বেশি। তাহলে বাকি সোনা গেল কোথায়? অবশেষে তিনদিন ধরে অভিযান চালাল পুলিশ। খোঁড়া হল উঠোন। বাড়ির পাশের মাঠ। তাতেই একে একে বেরতে শুরু করল গয়না। সবমিলিয়ে যেন স্বর্ণ ভাণ্ডার। ছোটো ছোটো পুঁটলি করে পোঁতা মাটির নীচে। যেন যখের ধন।
লিকলিকে চেহারা লোকটার। শ্যামলা রং। বয়স ২৩ বছর। রাতে তাঁর বাড়ি যখন পুলিশ হানা দেয় তখন বৃষ্টি পড়ছে। শ্যামলা মানুষটি খালি গায়ে সাদা দাঁত বের করে হাসছেন। ‘স্যার এত রাতে?’ সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার আগে পুলিশ দেখে নিয়েছিল ছবি। ছবির সঙ্গে মিলে গেল মুখ। তারপরই পাকড়াও। ধরা পড়ার পর আমতা আমতা করে একটি দোকানের অ্যাসবেস্টস খুলে চুরি করার কথা স্বীকার করে নেন মানুষটি। একা একাই চুরি করেছেন, সে কথাও জানান।
২৮ জুন নিউটাউন থানার কেষ্টপুরের মিশনবাজারের একটি সোনার দোকানে চুরি হয়েছিল। ২৯ জুন সকালে অভিযোগ জানান দোকান মালিক। তাঁর অভিযোগ, দোকানের উপরে উঠে অ্যাসবেস্টস খুলে ভিতরে ঢুকে চুরি করা হয়েছে। সেই চুরির কিনারা করতে নেমে সাফল্য পেল নিউটাউন থানার পুলিশ। পাকড়াও অভিযুক্ত। ধৃতের নাম তাজমুল হক। তাঁর বাড়ি রাজারহাটে। তদন্তে নেমে দোকানের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। তা দেখে চিহ্নিত হয় অভিযুক্ত। তারপর শনিবার অভিযান এবং রাতে গ্রেপ্তার তাজমুল। প্রথমদিন একটি পুঁটলি বের করে পুলিশকে বলেছিলেন, ‘আর কিছু পাইনি। এইটুকুই।’ তবে পুলিশের অনুমান, চুরির সব সোনা এই লোকটার কাছেই আছে। আদালতে পেশ করে তাঁকে রিমান্ডে নেয় থানা। তারপর টানা তিনদিন ধরে অভিযান চালায়। এবং প্রতিদিনই মাটি খুঁড়ে অল্প অল্প করে সোনা বের করতে শুরু করেন ধৃত। কিন্তু প্রতিবারই ফাটা রেকর্ডের মতো বলতেন, ‘স্যার, সত্যি বলছি আর কিচ্ছু পাইনি।’ তবে পুরো উঠোন খোঁড়া হয়। পুলিশ দেখতে পায় বাড়ির পিছনে মাঠ আছে। তবে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ির কোনো দাগ নেই। রোজ বৃষ্টি হচ্ছে বলে সম্ভবত কাদায় দাগ মুছে গিয়েছে। কিন্তু গয়না লুকিয়ে রাখার হদিশ ছিল শুধু তাজমুলের কাছে। পুলিশের চাপে মাঠের বহু জায়গা খুঁড়তে বাধ্য হন। তারপরই বেরিয়ে আসতে থাকে লুকিয়ে রাখা সোনা। সঙ্গে কিছু রুপোর গয়না এবং শতাধিক বছর পুরনো রুপোর কয়েনও। মঙ্গলবার বিকেলে উদ্ধার হওয়া গয়না নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন নিউটাউনের ডিসি জ্যোতির্ময় রায়। সঙ্গে ছিলেন এসিপি নিউটাউন উৎসা শ্রীমানি। ডিসি বলেন, ‘চুরির বেশিরভাগ গয়নাই উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি মিলিয়ে দেখা চলছে। অভিযুক্ত একা একাই চুরি করেছিল। এরকম ঘটনা সে আগেও ঘটিয়েছে।