Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শঙ্করপুরের অভিশপ্ত ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ দেহ, এখনও নিখোঁজ ৬, শনাক্তকরণে হবে ডিএনএ পরীক্ষা

শঙ্করপুরের জয় মা কালী ট্রলার থেকে ৯ দেহ উদ্ধার হয়েছে, এখনও নিখোঁজ ৬ মৎস্যজীবী। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণ হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

শঙ্করপুরের অভিশপ্ত ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ দেহ, এখনও নিখোঁজ ৬, শনাক্তকরণে হবে ডিএনএ পরীক্ষা
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: রবিবার পাওয়া গিয়েছিল একজনের দেহ। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুরের অভিশপ্ত ‘জয় মা কালী’ ট্রলার থেকে আরও আটজনের দেহ উদ্ধার হল। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ছ’জন মৎস্যজীবী। মৃতদেহগুলি কাকদ্বীপ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে হাজির হন মৃতদের আত্মীয়স্বজন। মৃতদেহগুলি পচে ফুলে যাওয়ায় তাঁদের শনাক্ত করার উপায় ছিল না। তাই মৎস্যজীবীদের পরিচয় জানতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ জন মৎস্যজীবীর বাড়ির লোকজনের থেকেই রক্তের নমুনা নেওয়ার কথা ঠিক হলেও, ১১ জনের থেকে সেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকিদের পরিবারের তরফে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা কেউই সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীর রক্তের সম্পর্কের নন। রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, পরিবারের এমন লোকজনকে আরেকদিন এসে রক্তের নমুনা দিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কাকদ্বীপ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করার পর দেহ সংরক্ষণ করতে কলকাতার কাঁটাপুকুর মর্গে পাঠানো হয়। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, গত ২ জুলাই শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে ‘জয় মা কালী’ ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে রওনা দিয়েছিল। তাতে মোট ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। ৬ জুলাই থেকে সেটির সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রশাসনের উদ্যোগে নানাভাবে খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। অবশেষে রবিবার বকখালি থেকে প্রায় ১৬-১৭ কিলোমিটার দূরে রক্তেশ্বরী চরের কাছে উল্টানো অবস্থায় একটি ট্রলারকে দেখতে পায় উপকূল রক্ষী বাহিনী। পরে কাছে গিয়ে সেটির গায়ে নাম দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি সেই নিখোঁজ হওয়া ট্রলার। এরপর রাতেই সেটিকে পাথরপ্রতিমার সীতারামপুর ঘাটে টেনে আনা হয়। রাতে ট্রলারের ভিতর থেকে জল বের করার কাজ শুরু হয়। তখনই একজনের দেহ উদ্ধার হয়। ভোর হতেই এক এক করে পাওয়া যায় আরো আটটি দেহ। কিন্তু বাকি ছয়জন কোথায়? এই নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তাঁদের জীবিত থাকার আসা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন অন্যান্য মৎস্যজীবীরা। 
এদিকে, সোমবার ট্রলার থেকে দেহ উদ্ধার হওয়ার খবর গ্রামে পৌঁছাতেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের সদস্যদের কাকদ্বীপ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডলও কাকদ্বীপে চলে আসেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতদের পরিবারের লোকজন। হাসপাতাল চত্বরে বিষাদের সুর। কাঁথির মহকুমা শাসক প্রতীক অশোক ধুমল বলেন, মোট ন’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা দেওয়ার জন্য কাকদ্বীপে পাঠানো হয়েছিল। মোট ১৫জন মৎস্যজীবীর মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ন’জন, নদীয়ার দু’জন, হাওড়ার একজন এবং ওড়িশার তিনজন ছিলেন। এদিন সকাল থেকেই কাকদ্বীপ হাসপাতাল চত্বর ছিল মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের সদস্যদের ভিড়। বিকেল পাঁচটা নাগাদ সেখানে আসেন মৎস্যমন্ত্রী রাজেশ মাহাত। তিনি মৎস্যজীবী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ