Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কন্যাশ্রী পেলেও স্কুলে গরহাজির ১৫টি ব্লকের ৮ হাজার ৯৬৫ ছাত্রী

কন্যাশ্রী পেলেও স্কুলে গরহাজির ১৫টি ব্লকের ৮ হাজার ৯৬৫ ছাত্রী
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মালদহে নিয়মিত কন্যাশ্রী-১ প্রকল্পের সুবিধা পেলেও স্কুলে গরহাজির বহু ছাত্রী। কন্যাশ্রী-২ প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতেই এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে,মালদহের ১৫টি ব্লক ও দুটি পুরসভা এলাকা মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৯৬৫ জন ছাত্রী অনুপস্থিত। প্রশাসন এব্যাপারে স্কুলগুলিকে অনুপস্থিত ছাত্রীদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, স্কুলছুট ছাত্রীদের কারও হয়তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে, কেউ হয়তো অন্য কারণেও অনুপস্থিত থাকতে পারে। এনিয়ে সরেজমিনে খোঁজ খবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

Advertisement

মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অনিন্দ্য সরকার বলেন, কোনও যোগ্য সুবিধাভোগী যেন বাদ না যায়, সেটা নিশ্চিত করতেই বাড়ি বাড়ি যাওয়া হবে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে মালদহে কন্যাশ্রী-১ প্রকল্পের অধীনে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৬০৭ জন ছাত্রীকে বার্ষিক এক হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই ছাত্রীরাই ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে কন্যাশ্রী-২ প্রকল্পের অধীনে এককালীন ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যাটা চোখে পড়ছে না। চলতি অর্থবর্ষে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রশসনিক রিপোর্ট বলছে মালদহের কন্যাশ্রী -২ প্রকল্পে ৮ হাজার ৯৬৫ জনের আবেদন বাকি আছে। কেন আবেদন বাকি? প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ছাত্রীরা বর্তমানে স্কুলছুট। কেন তারা স্কুলছুট? ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, স্মার্টফোনের যুগে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ফাঁদে পড়ে হয়তো বিপথগামী হয়েছে। আবার একাংশ মনে পড়ছে কেউ পড়াশোনা ছেড়ে দিতে পারে। পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। অনেকের আবারও বিয়েও হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 
বাল্যবিবাহ রুখতে এবং মেয়েদের স্কুলমুখী করে তুলতে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কন্যাশ্রী-১ প্রকল্পের সুবিধা পেতে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে এবং ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরত মেয়েদের বার্ষিক এক হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। কন্যাশ্রী-২ প্রকল্পে ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী অবিবাহিতা এবং যে কোনও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠরতা মেয়েদের এককালীন ২৫ হাজার প্রদান করা হয়ে থাকে। 
প্রশাসনের রিপোর্ট বলছে, স্কুলছুটদের তালিকায় সবথেকে উপরে রয়েছে মালদহের কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লক। এই ব্লকে ১২৪১ জন ছাত্রী মাঝপথে পড়া ছেড়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় কালিয়াচক-১ নম্বর ব্লক। এখানে স্কুলছুট ছাত্রীর সংখ্যা ১১৫৮। গাজোলে ৮৪৪, রতুয়া-১ ব্লকে ৮২৭, হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকে ৭৭৪, কাকিয়াচক-২ ব্লকে ৭৫২, ইংলিশবাজারে ৭১১, রতুয়া-২ ব্লকে ৫১৩, হবিবপুরে ৩৬৭, চাঁচল-২ ব্লকে ৩৪৭, ইংলিশবাজার শহরে ৩৪০, মানিকচকে ২৯৯, চাঁচল-১ ২৯৪, পুরাতন মালদহে ১৬৬ এবং পুরাতন মালদহ শহরে ১৬৪ ও বামোনগোলায় ১৩৮ জন ছাত্রী স্কুলছুট। এখন তাদের খোঁজে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ