নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২০টি ব্লকে ৮৯হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় রয়েছে। ১৫আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ১লক্ষ ২২হাজার ৩৪০হেক্টর জমিতে ধান রোয়া সম্পন্ন হয়েছিল। তার মধ্যে ৮৯হাজার হেক্টর জমির ধানের চারা নষ্টের পথে। কৃষিদপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। তমলুক মহকুমার পাঁচটি ব্লক বাদে জেলার ২০টি ব্লকে ধান চাষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। পান, ফুল ও মাছ চাষেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্যানপালন দপ্তর ও মৎস্য দপ্তর তার হিসেব কষছে।
জেলা কৃষিদপ্তরের উপ-অধিকর্তা(প্রশাসন) সুকান্ত সিংহরায় বলেন, ৮৯হাজার হেক্টর জমির ধান ও ১৬হাজার হেক্টর জমির সব্জি চাষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমরা প্রাথমিক রিপোর্ট সংগ্রহ করেছি। ২০টি ব্লকে ২০টি টিম ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত রিপোর্ট সংগ্রহে নেমেছে।
মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি নেই। তবু পটাশপুর, ভগবানপুর, চণ্ডীপুর, ময়না সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জমা জল নামছে না। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এখনও জলমগ্ন। প্রায় ছ’হাজার মানুষ ত্রাণশিবিরে রয়েছেন। তাঁরা বাড়ি যেতে পারছেন না। সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী রামনগর-১ ব্লকের বাধিয়া ও এগরা-১ ব্লকের সাহাড়া পঞ্চায়েতের আটটি গ্রামের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়েছে। বৃহস্পতিবার উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা সাহাড়া পঞ্চায়েত এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান।
পটাশপুর, ভগবানপুর, চণ্ডীপুর, নন্দকুমার ও হলদিয়ায় অনেক স্কুল বন্ধ রয়েছে। স্কুলের ভিতরে জল জমে আছে। দোতলায় ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। জমা জল নামাতে জরুরি ভিত্তিতে আর্থমুভার নামিয়ে ক্যানেল, খাল, নিকাশি নালা থেকে কচুরিপানা, ঝোপঝাড়, পলি সরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। কিন্তু চটজলদি সমস্যা মিটছে না। চণ্ডীপুর ব্লকের নরঘাটে মগরাজপুর খালপাড় দখল করে কংক্রিটের বিল্ডিং তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বুলডোজার দিয়ে সেখানকার বেশ কয়েকটি বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হয়।
কেলেঘাই নদীর বিপদসীমা ৬.৪মিটার। বৃহস্পতিবার ওই নদীর জলস্তর ছিল ৬.৯মিটার। ফলে এখনো দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই মিলছে না। আবার, কংসাবতী ব্যারেজ থেকে ২০হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ার কারণে পাঁশকুড়ায় ওই নদীতেও জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। বুধবার পাঁশকুড়ার ডোমঘাটে জলের তোড়ে সাঁকো ভেঙে যায়। তারপর থেকেই যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। শকুড়ারবৃহস্পতিবার দুপুরে সেই ডোমঘাটে পারাপারের সময় আচমকা কচুরিপানার চাপে নৌকাটি ভারসাম্য হারায়। খেয়া পারাপারের সুবিধার জন্য দুই পাড়ের সঙ্গে বেঁধে রাখা দড়িও ছিঁড়ে যায়। ফলে জলের তোড়ে নৌকা ভেসে প্রায় ৫০০মিটার চলে যায়। তিনজন নদীতে পড়ে যান। তাঁরা সাঁতার কেটে পাড়ে চলে আসেন। ভেসে যাওয়া নৌকা পাড়ে আটকে যাওয়ায় সবাই প্রাণে রক্ষা পান। পাঁশকুড়া ব্লকের চৈতন্যপুর-২ ও প্রতাপপুর-২ পঞ্চায়েতের সংযোগকারী ডোমঘাট হয়ে রোজ অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন।