নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নতুন করে পথশ্রীর রাস্তা দিয়ে জেলা সাজাতে নামছে হুগলি জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ১৮টি ব্লকে ৮৯টি পাকা রাস্তা তৈরি করা হবে। মূলত, প্রতিটি ব্লকের একাধিক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সংযোগকারী রাস্তাগুলিকে এবার পথশ্রীর আওতায় বাছাই করা হয়েছে। প্রায় ৪৮ কোটি টাকার বরাদ্দও রাজ্য সরকার দিয়েছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্রুত রাস্তাগুলি নির্মাণের কাজে নামার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন আছে। সেই সংক্রান্ত আইনি জটিলতা সৃষ্টির আগেই রাস্তার কাজ শেষ করে তা নাগরিকদের জন্য খুলে দিতে চাইছেন পরিষদ কর্তারা।
জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, হুগলি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির জন্য আমরা বহুদিন ধরেই কাজ করছি। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পথশ্রী প্রকল্প আমাদের সহায়ক হয়েছে। প্রতি দফাতেই আমরা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক রাস্তার প্রস্তাব দিই। এবারও জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলির সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। আমাদের সরকার পথশ্রীর আওতায় তা অনুমোদনও করে দিয়েছে। আমরা দ্রুত সেই কাজ শেষ করতে বাড়তি উদ্যোগ নিচ্ছি।
হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, আমাদের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। জেলার জন্য একগুচ্ছ নতুন পাকা রাস্তার অনুমোদন আমরা পথশ্রী প্রকল্পে পেয়েছি। দ্রুত সেই কাজ শুরু করা হবে। খুব ছোট আকারের রাস্তা থেকে বৃহৎ আকারের রাস্তাও জেলায় তৈরি করা হবে। নাগরিকদের পরিষেবা দিতে রাজ্য সরকার নিরন্তর প্রয়াস করছে। আমরাও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করছি।
হুগলি জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, পথশ্রী প্রকল্পের রাস্তা সবচেয়ে বেশি তৈরি হবে ধনেখালি ব্লকে। সেখানে ১০টি রাস্তার অনুমোদন মিলেছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে সিঙ্গুর ব্লক, সেখানে ৯টি রাস্তা হবে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৮টি করে রাস্তার অনুমোদন হয়েছে পান্ডুয়া এবং পোলবা-দাদপুরের জন্য। আরামবাগ ব্লকের জন্য অনুমোদন হয়েছে ৭টি রাস্তা। শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া সহ তিনটি ব্লক ৬টি করে রাস্তা পেয়েছে। কমপক্ষে দু’টি করে রাস্তা পেয়েছে চারটি ব্লক।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এবারের পথশ্রীতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলিকে প্রান্তিক এলাকার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই নিরিখে ছোট ও বড়– উভয়প্রকার রাস্তাই তৈরি করা হবে। জেলায় এই দফায় মোট ১০৭.০৮ কিমি রাস্তা তৈরি হবে। তার মধ্যে সবচেয়ে কম, ২.১ কিমি রাস্তা তৈরি হবে হরিপালে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ১০ কিমি রাস্তা তৈরি হবে সিঙ্গুরে। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সমস্ত রাস্তার কাজ শেষ করার জন্য পরিষদ কর্তারা তোড়জোড় শুরু করেছেন। নিজস্ব চিত্র