Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানগুলিতে পাওয়া যাচ্ছে না ৮৫ শতাংশ কমিশন

ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানগুলিতে পাওয়া যাচ্ছে না ৮৫ শতাংশ কমিশন
  • ১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে বড় বড় করে লেখা রয়েছে ৮৫ শতাংশ ছাড়ের কথা। কিন্তু তা নামেই। বাস্তবে ওষুধ কেনার সময় সেই ছাড় মেলে না বলে অভিযোগ রোগীর পরিবার পরিজনদের। শুধু তাই নয়, ক্যাশমেমোর জায়গায় দেওয়া হচ্ছে হাতে লেখা কাঁচা বিল। এনিয়ে রবিবার রাতে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে শোরগোল পড়ে যায়। এমআরপি না থাকা ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়ায়। ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের সামনেই বিক্ষোভ দেখান রোগীর পরিবারের লোকজন। পাশাপাশি তাঁরা হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত সরকার বলেন, অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

পুরনো সংস্থার মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে থাকা ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান নতুন একটা সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ওষুধের দামের উপর ৮৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ওষুধের দামে বিপুল ছাড় মেলায় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে দূর দূরান্ত থেকে বহু রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন। প্রতিদিন সকালের দিকে ব্যাপক রোগীর চাপ থাকে। কিন্তু, অধিকাংশ ওষুধই ন্যায্যমূল্যের দোকানে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রোগীর পরিবারের।‌ ফলে বাইরের দোকান থেকেই ওষুধ কিনতে হয়। আর হাতে লেখা কাঁচা বিল দেওয়া অবৈধ বলেই মনে করছেন অনেকে। 
মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থেকে আসা ওহিদুর জামান ছেলেকে নিয়ে নদীয়া জেলাতে কাজে এসেছিলেন। হঠাৎ তাঁর ছেলের পেটে ব্যথা শুরু হয়। গত শনিবার মাঝরাতে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি। চিকিৎসার জন্য ডাক্তার ওহিদুর সাহেবকে ট্রপ-টি কিনতে বলেন। গত রবিবার সন্ধ্যায় ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে তিনি তা কেনেন। তিনি পাকা বিল চাইলে দোকানদার তা দিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে ছেলের আবার পেটে যন্ত্রণা শুরু হয়। আমি ইঞ্জেকশন কিনতে আসি। ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান থেকে বলা হয় ওই ইঞ্জেকশন নেই।‌ তারপর ট্রপ-টি কেনা হয়। দাম নেয় ৭০০ টাকা। অথচ তাতে কোনও এমআরপি লেখা ছিল না। আমার হাতে কাঁচা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। আমি কম্পিউটার বিল চাইলে ওরা দেয়নি। উল্টে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।
তেহট্ট থেকে বাবার চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন শেফালি সরকার। তিনি বলেন, আমার বাবার হৃদরোগ জনিত সমস্যা রয়েছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের কাছে একই ওষুধের দাম সকালে ৫০০ টাকা  দুপুরে ৪২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ওই ওষুধের এমআরপি ৭০০ টাকা। কিন্তু ওষুধের দামে ৮৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়নি। 
স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলার বর্ণালী গুইনদত্ত বলেন, রোগীর পরিবারের লোকজন আমাদের বিষয়টি জানান। আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে যাই। এইভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকানো অনুচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ