Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেশজুড়ে ৮৫টি বেআইনি লেনদেন একটি অ্যাকাউন্টে, বাগুইআটি প্রতারণা কাণ্ডে গ্রেপ্তার জোড়াসাঁকোর যুবক

হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে পরিচয়। সেই বিশ্বাসে অনলাইনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন প্রায় দেড় কোটি টাকা। কিন্তু, মুনাফা তো দূরের কথা, মূলধনও ফিরে পাননি তিনি।

দেশজুড়ে ৮৫টি বেআইনি লেনদেন একটি অ্যাকাউন্টে, বাগুইআটি প্রতারণা কাণ্ডে গ্রেপ্তার জোড়াসাঁকোর যুবক
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে পরিচয়। সেই বিশ্বাসে অনলাইনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন প্রায় দেড় কোটি টাকা। কিন্তু, মুনাফা তো দূরের কথা, মূলধনও ফিরে পাননি তিনি। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে বাগুইআটি থানার পুলিস ধৃত যুবকের অ্যাকাউন্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল। তার অ্যাকাউন্টে দেশজুড়ে ৮৫টি বেআইনি লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এমনকী, ন্যাশনাল পোর্টালে ওই অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৮৫টি কেসও ফাইল হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম আব্দুল করিম। কলকাতার জোড়াসাঁকো থানা এলাকায় তার বাড়ি। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই অ্যাকাউন্টটি মিউল অ্যাকাউন্ট হতে পারে। সাইবার প্রতারণার টাকা লেনদেনের জন্যই হয়তো অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছিল। তাই ৮৫টি কেসে কত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, এর পিছনে কারা কারা যুক্ত, তারও তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

অনলাইনের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে অনেকেই সেই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। অল্পবয়সি থেকে প্রবীণ— সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকেই। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটি থানা এলাকার তেঘরিয়ার এক বাসিন্দা অনলাইনে বিনিয়োগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ পান। তিনি উত্তর দেওয়ায় তাঁকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। প্রতারকদের কথা মতো তিনি সেই অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করেন। বেশ কয়েক দফায় তিনি মোট ১ কোটি ৪৩ লক্ষ ২৬ হাজার ৪৮১ টাকা বিনিয়োগ করেন সেখানে।
মুনাফা সহ বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে সল্টলেকে তিনি একটি জমি কিনবেন বলে ঠিক করেছিলেন। সেই জমি দেখেও রেখেছিলেন। জমি কেনার জন্য তিনি ওই টাকা তুলতে গেলে বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে বাগুইআটি থানার পুলিস জানতে পারে, জোড়াসাঁকোর এক যুবকের অ্যাকাউন্টে দু’লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। তারপর মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে কলকাতার মহাত্মা গান্ধী রোড থেকে আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইবার ক্রাইমের ন্যাশনাল পোর্টালে পুলিস দেখে, তার অ্যাকাউন্টের নামে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৮৫টি কেস ফাইল হয়েছে। অর্থাৎ, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা ধরনের সাইবার প্রতারণার টাকা তার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারণার টাকা লেনদেন করার জন্য প্রতারকরা এই ধরনের মিউল অ্যাকাউন্ট খোলে। এইসব অ্যাকাউন্টে প্রচুর টাকা লেনদেন হয়। প্রতারকরা ওই অ্যাকাউন্টগুলি ভাড়ায় নেয়। অর্থাৎ, যাদের নথিপত্র দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হয়, তাদের কিছু কিছু টাকা দেওয়া হয়। কোনও কোনও মিউল অ্যাকাউন্ট প্রতারকরা মোটা টাকায় কিনেও নেয়। এর আগে বিধাননগর কমিশনারেট ৪০০’রও বেশি মিউল অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছিল। তবে, জোড়াসাঁকোর ধৃত যুবকের অ্যাকাউন্টে লেনদেনের নথিও মিলেছে। দেশের ৮৫টি বড় লেনদেন হয়েছে, তার অ্যাকাউন্টে। তবে, ওই লেনদেন নিয়ে কেস ফাইল হয়েছে। কিন্তু, যে সব কেস এখনও ফাইল হয়নি, সেই সব ক্ষেত্রে কত কোটির লেনদেন হয়েছে, তার ডিটেলস যাচাই করা হচ্ছে। এই অ্যাকাউন্ট ছাড়া, প্রতারণার টাকা লেনদেনের জন্য দ্বিতীয় বা অন্য কোনও অ্যাকাউন্ট তার ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ