Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাবালিকাকে বিয়ে করতে এসে বর সহ ৮ জন শ্রীঘরে

দুপুরে বসেছিল নাবালিকার বিয়ের আসর। বাড়ি ভরতি লোকজন। আত্মীয়-স্বজনরা সকলেই প্রায় চলে এসেছেন। পাত্রীকেও সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

নাবালিকাকে বিয়ে করতে এসে বর সহ ৮ জন শ্রীঘরে
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: দুপুরে বসেছিল নাবালিকার বিয়ের আসর। বাড়ি ভরতি লোকজন। আত্মীয়-স্বজনরা সকলেই প্রায় চলে এসেছেন। পাত্রীকেও সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বেলা বাড়তেই কুলতলির ওই বাড়িতে বরযাত্রী সহ হাজির জয়নগরের বহড়ুর বাসিন্দা আরিফুল মোল্লা। আরিফুলের বয়স ২২ বছর। কোনওভাবে এই বিয়ের খবর পায় কুলতলি থানার পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে অফিসার পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হানা দেন ওই বিয়েবাড়িতে। বন্ধ করা হয় বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠান। গ্রেপ্তার করা হয় পাত্র ও নাবালিকার অভিভাবক ও কয়েকজন আত্মীয়কে। পাত্রর বাবা ও মামাকেও ধরেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে। এই ঘটনায় কুলতলির ওই গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Advertisement

পাত্রীর বয়স আঠারো না হলে তার বিয়ে দেওয়া আইন বিরুদ্ধ। কুলতলির ঘটনায় স্বভাবতই বাল্যবিবাহের অভিযোগ উঠেছে। নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই কিশোরীর এক আত্মীয়ই এই বিয়ের বিষয়ে মধ্যস্থতা করেছেন। দু’পক্ষের সম্মতিতেই এই বিয়ে হচ্ছিল। তাঁরা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ঠিক সময়ে পুলিশ না এলে এই নাবালিকার বিয়ে আটকানো যেত না।   
পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকা নবম শ্রেণির ছাত্রী। কয়েক মাস আগেই তার বিয়ে ঠিক করেছিল পরিবার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ রোধে মানুষকে বাড়ে বাড়ে সচেতন করা হলেও মাঝেমধ্যে দু’-একটি ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। কুলতলি ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, গ্রামে এবং এলাকার সব স্কুলে ফের প্রচার করা হবে। পাশাপাশি পুলিশকেও এ বিষয়ে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ