Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বিজেপি-রাজ্যে ৭৮ শতাংশ রেশন কার্ডই ভুয়ো

বিজেপি-রাজ্যে ৭৮ শতাংশ রেশন কার্ডই ভুয়ো
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৩
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘ভূতুড়ে’ ভোটার কার্ড নিয়ে মহারাষ্ট্র, দিল্লির পর এখন বাংলাতেও শোরগোল চরমে। সেই আবহে এবার ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে সামনে এল ভুয়ো রেশন কার্ডের ‘পাহাড়’! সে সরাসরি বিজেপি শাসিত অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, অসম, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, ত্রিপুরা হোক, কিংবা এনডিএ শাসিত সিকিম, মহারাষ্ট্র, বিহার। কোথাও ৭৮ শতাংশ ‘ডুপ্লিকেট’ রেশন কার্ড, তো কোথাও ৫৮ শতাংশ। স্রেফ রাজ্যের মধ্যে নয়, এক নামে অন্য রাজ্যেও চলছে রেশন কার্ড। একের পর এক এমন অভিযোগ পেয়ে অবশেষে উদ্যোগী হয়েছে গণবণ্টন মন্ত্রক। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদের দিল্লিতে ডেকে যাবতীয় ভ্রান্তি শুধরে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ভুয়ো রেশন কার্ড ধরতে গিয়ে প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে বঞ্চিত না হন, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সাফ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আঙুলের ছাপ না মিললে বা ইন্টারনেট সার্ভারে সমস্যা থাকলেও অফলাইন রেশন দিতে হবে তাদের। 

Advertisement

ভুয়ো রেশন কার্ড ধরতে ‘ই-কেওয়াইসি’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। উপভোক্তার আধারের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ হচ্ছে রেশন কার্ড নম্বরের। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যে এব্যাপারে উদ্যোগ নেই বললেই চলে। খোদ মন্ত্রকের রিপোর্টে ধরা পড়েছে সেই তথ্য। ‘বর্তমান’-এর হাতে আসা ওই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশ মাত্র ২৮ শতাংশ ই-কেওয়াইসি করেছে। ত্রিপুরা ২ শতাংশ। অসম, মহারাষ্ট্র মাত্র ১ শতাংশ। হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, গোয়া তাও করেনি। গুজরাতে আবার ১৭ হাজার ৮৬১টি ভুয়ো কার্ডের খবর জেনেও সার্ভে হয়েছে মাত্র ১৫.৫৬ শতাংশ। অসমে ২৫ হাজার ২১২ কার্ড ডুপ্লিকেট। সমীক্ষা হয়েছে মাত্র ১৯.৪১ শতাংশ। ভুয়ো কার্ডের ক্ষেত্রে রেকর্ড করেছে বিহার (৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ২৯০), হরিয়ানা ( ৫ লক্ষ ৮ হাজার ৬৭) এবং উত্তরপ্রদেশ (৩ লক্ষ ৪ হাজার ১৪০)।
সামান্য পরিমাণ এই সমীক্ষার পর অরুণাচলে ৭৮.২৮ শতাংশ ডুপ্লিকেট কার্ড এখনই বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে। সিকিম ও মহারাষ্ট্রে তা যথাক্রমে ৬৮.৪ এবং ৫৮.১৬ শতাংশ। এছাড়া হরিয়ানায় ৫৩.১৮ শতাংশ, গোয়ায় ৪৪.৩৮ শতাংশ, রাজস্থানে ৪১.৫৩ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ৩৮.৫৬ শতাংশ, অসমে ৩৫.৮৭ শতাংশ, ওড়িশায় ৩৯.৪৬ শতাংশ, ত্রিপুরায় ২৩.৮৮ শতাংশ এবং বিহারে ২১.৭০ শতাংশ ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রক।
জানা যাচ্ছে, রাজ্য হিসেবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গই ভুয়ো রেশন কার্ড ধরতে ১০০ শতাংশ ই-কেওয়াইসি করেছে। এ ব্যাপারে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের উদ্যোগে আমাদের আধার সংযুক্তিকরণ সম্পূর্ণ। ভুয়ো রেশন কার্ডের অভিযোগ থাকলেও ফিল্ড সার্ভেতে ৯৬ শতাংশ কার্ডই আসল বলে প্রমাণ হয়েছে।’
প্রকৃত উপভোক্তাকে চাল-গম দেওয়ার জন্য ২০১৭ সাল থেকে রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণের কথা বলছে কেন্দ্র। ৩০ বার বাড়ানো হয়েছে তার সময়সীমা। তবে আর নয়, আগামী ৩১ মার্চের পর এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড বন্ধে ‘টিপিডিএস কন্টোল অর্ডার, ২০১৫’-এ সংশোধনী আনার কথা ভাবছে কেন্দ্র। নয়া নিয়মে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ই-কেওয়াইসি করতে হবে। একটানা ছ’মাস রেশন না তুললে সাময়িকভাবে অকেজো হয়ে যাবে রেশন কার্ড।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ