Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে জলের তলায় ৭৫টি পুজোমণ্ডপ, বন্যার জেরে ফিকে দুর্গোৎসবের আমেজ

জলের তলায় ঘাটালের ৭৫ টি মণ্ডপ, পুজো ঘিরে চরমে অনিশ্চয়তা। শিয়রে কড়া নাড়ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব।

ঘাটালে জলের তলায় ৭৫টি পুজোমণ্ডপ, বন্যার জেরে ফিকে দুর্গোৎসবের আমেজ
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: জলের তলায় ঘাটালের ৭৫ টি মণ্ডপ, পুজো ঘিরে চরমে অনিশ্চয়তা। শিয়রে কড়া নাড়ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, তারপরেই বাতাসে ভাসবে মহালয়ার আগমনী সুর। কিন্তু উৎসবের উন্মাদনার বদলে ঘাটাল মহকুমা জুড়ে এখন শুধুই বিষাদ আর উৎকণ্ঠার ছবি। মহকুমায় প্রায় ৭৫টির মতো দুর্গাপুজো মণ্ডপ বর্তমানে সম্পূর্ণ জলমগ্ন। এর মধ্যে কেবল ঘাটাল শহরেই রয়েছে ২৫টি পুজো মণ্ডপ। বন্যা পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ, মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করার মতো জল নামতে এখনও অন্তত দশ দিন সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। জল নামার পর এত অল্প সময়ে কীভাবে মণ্ডপ তৈরি হবে, তা নিয়েই এখন প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পুজো উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে ডেকোরেটর্স ও প্যান্ডেল ব্যবসায়ীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিন কান্তি বেরা জানিয়েছেন, আমার নিজের ৩  নম্বর ওয়ার্ডেই তিনের পল্লি ক্লাব পুজোমণ্ডপ তৈরি করার কাজ শুরু করতে পারেনি।  দ্রুত জল নামানোর সবরকম চেষ্টা চললেও, প্রকৃতির রোষে এবার ঘাটালের দুর্গাপুজো যে চরম বিপর্যয়ের মুখে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যার কবলে পড়ে মহকুমার ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টি ওয়ার্ড এবং ঘাটাল ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১০টি এলাকাই এখন জলের তলায়। এছাড়াও দাসপুর-১ ব্লকের রাজনগর ও নিজনাড়াজোল গ্রামপঞ্চায়েতের অধিকাংশ জায়গায় এখনও বন্যার জল রয়েছে। কয়েকটি পুজো কমিটি বেশকিছুদিন আগে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু করলেও বর্তমানে তা বন্যার জলে ডুবে রয়েছে। 
ঘাটাল শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা বাণেশ্বর মন্দির পুজো কমিটির কর্মকর্তা প্রদীপ সাহা বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, আমাদের সর্বজনীন পুজোমণ্ডপের সামনে দিয়ে এখন রীতিমতো নৌকা চলাচল করছে। শুধু এই একটি পুজো নয়, ঘাটাল চাউলি যুব দুর্গোৎসব, রামচন্দ্রপুর দুর্গোৎসব, গড় প্রতাপনগর সর্বজনীন, তিনের পল্লি, খড়ার দলপতিপুর ও মনশুকা দুর্গোৎসব কমিটির পুজোমণ্ডপ সহ একাধিক পুজোর প্রস্তুতি জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুজোর প্রস্তুতি শেষ করা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় উদ্যোক্তারা। 
প্যান্ডেল নির্মাণের কর্মী মিলন পোড়ের মতো শিল্পীদের চাপটা আরও যেন বেশি বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্যার জল কমে যাওয়ার পর হাতে আর মাত্র কয়েক দিন সময় পাব। তারপর এত অল্প দিনে শ্রমিকরা কীভাবে মণ্ডপ দাঁড় করাবেন তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনেও উৎসবের আনন্দ পুরোপুরি ফিকে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, এবার বন্যার জলে উৎসবের যাবতীয় আমেজ ভেসে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ