শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: জোরকদমে চলছে ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআরের কাজ। বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই বিহারে প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। এরই মধ্যে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। নির্বাচন কমিশনই জানিয়েছে, ‘বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা’র পর প্রায় ৭৪ লক্ষ ভোটারের হদিশ পায়নি তারা! শেষ মুহূর্তে তাই তারা স্রেফ হাত তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ এবং এই ‘নিখোঁজ’ ভোটারদের দায় ঠেলেছে রাজনৈতিক দলগুলির উপর। ২৬ জুলাই এই রিভিশনে আবেদন জানানোর শেষ দিন। তার মধ্যে দলগুলিকে এই ৭৪ লক্ষ ভোটারের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে হবে। না হলে এই সব নাম তালিকায় থাকবে না।
মঙ্গলবার বিহার এসআইআর সংক্রান্ত কমিশনের জারি করা তথ্য অনুযায়ী, সে রাজ্যের স্বীকৃত ১২টি রাজনৈতিক দলের জেলা সভাপতিদের এই বিপুল সংখ্যক ‘নিখোঁজ’ ভোটারদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন! ‘অনুরোধের’ সুরে বলা হয়েছে,‘সব দলের জেলা সভাপতিরা তাঁদের দ্বারা নিযুক্ত প্রায় দেড় লক্ষ বুথ লেভেল এজেন্টদের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক নিখোঁজ ভোটারদের খুঁজে বের করুন।’ কারণ হিসেবে কমিশনের যুক্তি, ‘কোনও যোগ্য ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন সেজন্যই রাজনৈতিক দলগুলিকেও এমনটা করতে বলা হয়েছে।’ কিন্তু কমিশনের এই যুক্তির পিছনেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে রাজনৈতিক মহল। তাদের যুক্তি, এসআইআরের পর বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে, যাতে দায় শুধুমাত্র তাদের উপর না বর্তায়, সে কারণেই এই ‘নীতি’ কমিশনের।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এদিন পর্যন্ত নথিভুক্ত ঠিকানায় মোট ৫২ লক্ষ ৩০ হাজার ১২৬ জন, অর্থাৎ ৬.৬২ শতাংশ ভোটারের খোঁজ মেলেনি। ২৬ জুলাই বিহারে গণনা বা ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। গণনা ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য হাতে রয়েছে মাত্র চারদিন। কমিশন জানিয়েছে, এদিন পর্যন্ত ২১.৩৬ লক্ষ মানুষ গণনা ফর্ম জমা দেননি। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার খুঁজে না পাওয়া গেলে, বা তাদের ফর্ম জমা না পড়লে তাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। একারণেই কি দায় নিজেদের ঘাড়ে রাখতে চাইছে না কমিশন? বিরোধী আরজেডির দাবি, যেসব জায়গায় বিজেপি পিছিয়ে রয়েছে, সেখানেই ভোটার নিখোঁজের তত্ত্ব সামনে আসছে। গত লোকসভা নির্বাচনে নীতীশ কুমারের জেডিইউয়ের সঙ্গে জোট গড়ে নির্বাচনে লড়েছিল বিজেপি। মোট ১১০টি আসনে প্রার্থী দিলেও তাদের ঝুলিতে গিয়েছিল ৭৪টি আসন। ১১৫টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ৪৩টি আসনে জয় পেয়েছিল জেডিইউ। সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা ভোটে তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। বেশি আসনে লড়াইয়ের পাশাপাশি ভোটার তালিকার দিক থেকেও বিজেপি নিশ্চিত থাকতে কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ।
বিহারের এই বিপুল সংখ্যক নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা সামনে আসতে এরাজ্যেও রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ বিহারের পরই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরুর কথা। সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই জেলায় জেলায় বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু এসআইআর শুরুর আগে থেকেই এরাজ্যে বিপুল সংখ্যক ‘ভুয়ো’ ভোটার তালিকা তৈরি করে ফেলেছে বিজেপি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাখির চোখ ২০২৬। তাই এমনটা করে এসআইআর শুরুর অনেক আগেই কমিশনকে চাপে রাখতে চাইছে বিজেপি।