নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দৈনিক যাত্রী সংখ্যার নিরিখে ভারতীয় রেলের অন্যতম ব্যস্ত ডিভিশন হাওড়া ও শিয়ালদহ। এই দুই ডিভিশনের অর্ন্তগত স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। তার সঙ্গে মালদহ ও আসানসোল ডিভিশন জুড়ে দিলে গোটা পূর্বরেল রোজ প্রায় ২৫ লাখের বেশি যাত্রী বহন করে। দেশের এহেন গুরুত্বপূর্ণ রেল জোন চত্বর অপরিচ্ছন্ন করার অপরাধে গত একবছরের ৭১ হাজারের বেশি যাত্রী হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। রেল আইন অনুযায়ী, তাঁদের থেকে জরিমানা বাবদ মোটা অঙ্ক ঘরে ঢুকেছে পূর্বরেলের—সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি। রেল সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর এই সময়কালের মধ্যে ৭১ হাজার ১৮০ জন যাত্রী চিহ্নিত হয়েছেন। যাঁরা প্ল্যাটফর্ম, স্টেশন কিংবা রেলের জমিতে নোংরা করার ব্যাপারে অভিযুক্ত। রেল আইন মেনে তাঁদের প্রত্যেককে জরিমানা করা হয়েছে। এইভাবে আয়ের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
মোদি জমানায় সার্বিক পরিচ্ছতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একদশক যাবৎ মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবসকে সামনে রেখে দেশজুড়ে একপক্ষকালের স্বচ্ছতা অভিযান চলছে। রেলের প্রতিটি স্তরে তা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। রেলের
সর্বোচ্চ কর্তা থেকে নীচুতলার কর্মী—সকলেই শামিল হন তাতে। একইসঙ্গে নাগরিকদের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সার্বিক সচেতনতা গড়ে তুলতে গুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে। তার মাধ্যমে রেল পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার-কর্মীদের পাশাপাশি যাত্রীদের মানসিকায় উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক বদল এসেছে।
তবে রেল চত্বর নোংরা করার প্রবণতা এখনো যায়নি। এটা রুখতে আরপিএফ কড়া নজর রাখছে। তাদের পাতা ফাঁদে গত একবছরে ৭১ হাজারের বেশি যাত্রী ধরা পড়েছেন। ভারতীয় রেলের বৃহত্তর পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যাত্রীদের জন্য একটি নির্মল, নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। স্টেশন এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতা রোধে আরপিএফ ২৪ ঘণ্টাই সতর্ক। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতন করতে ধারাবাহিক ঘোষণা, সচেতনতা অভিযান এবং দৃশ্যমান বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে ডাস্টবিনের ব্যবহার এবং বর্জ্যের সঠিক নিষ্কাশন সম্পর্কেও দেওয়া হচ্ছে প্রাথমিক পাঠ। সব মিলিয়ে সফরের পাশাপাশি ট্রেনে ওঠা-নামার মুহূর্ত সাফসুতরো রাখতে এই সিদ্ধান্ত রেলের।