সুকান্ত বসু , কলকাতা:
সুকান্ত বসু , কলকাতা:
বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ২০০৩ সালে এক ব্যক্তিকে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ বেআইনিভাবে গ্রেফতার করেছিল। তাঁর হেপাজত থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রটি। পরবর্তী সময়ে যাবতীয় নথিপত্র পেশ করে আদালতের নির্দেশেই বাজেয়াপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি ফেরত পান অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। মূল মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছিল। অবশেষে ২২ বছর পর জামিনে থাকা ওই ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস দিল আলিপুর আদালত। সম্প্রতি আলিপুরের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রদীপ দত্ত (৭১) নামে ওই ব্যক্তিকে অস্ত্র আইনের মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে। আদালতের মন্তব্য, এই মামলায় পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনে, তা কোনওভাবেই আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মুক্তিপ্রাপ্ত প্রদীপবাবুর দুই কৌঁসুলি শ্যামলকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় ও রতন পাঠক বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে বাম আমলের পুলিশ যে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল, আদালতের রায়েই তা প্রমাণিত। এই রায়ে আমরা খুশি। তবে প্রদীপবাবুকে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে যে মিথ্যা অভিযোগ বয়ে বেড়াতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনও কিছুর মাধ্যমেই এই মিথ্যা কলঙ্কের দাগ মুছে দেওয়া যাবে না।’
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালে ঠাকুরপুকুর থানার ডায়মন্ডহারবার রোডে একটি আবাসনে পুলিশ হানা দিয়ে দরজা ভেঙে প্রদীপ দত্ত নামে ওই ব্যবসায়ীর ঘরে ঢোকে। সেই ঘরে থাকা একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করে। সেই সময় ওই ব্যবসায়ী বাড়িতে ছিলেন না। পরে পুলিশ প্রদীপ দত্তের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে। অভিযুক্ত আদালত থেকে আগাম জামিন পান। পুলিশ তদন্ত শেষ করে আলিপুর আদালতে চার্জশিট দেয়।
এদিকে, এই অস্ত্র মামলার শুনানি শুরু হলে আদালতে ঘটে যায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কোর্টের নির্দেশে অভিযুক্ত যে তাঁর বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি ফেরত পেয়েছিলেন, সেই তথ্য তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের কাছে ছিল না। ফলে শুনানির সময় আদালতে পুলিশ একটি কাপড়ে মোড়া সিলকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাজির করে। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার আদালতে বলেন, এই আগ্নেয়াস্ত্রটি পুলিশ অভিযুক্তের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত করেছিল। ওই তথ্য পেশ করার পরই অভিযুক্তের আইনজীবী কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমার মক্কেল তো অনেক আগেই তাঁর বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রটি ফেরত পেয়েছেন।’ সেই মর্মে আইনি নথিও তিনি কোর্টের কাছে পেশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে আসল সেটাই তো আমাদের কাছে আশ্চর্য লাগছে। এ তো উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে অবস্থা। এনিয়ে বিচারকের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে। সেই অস্ত্র মামলায় অবশেষে খালাস পেলেন বৃদ্ধ।