গবেষণা বলছে, রোজকার ব্যস্ততা, অফিসের কাজের মাঝে রুটিন ভেঙে একটু দূরে ভ্রমণে গেলেই তা আমাদের দূরে রাখতে পারে একাধিক স্ট্রেস, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, বিষণ্ণতা থেকে! সেই ভ্রমণ হতে পারে পাশের শহরে এক বৈকালিক হাঁটা, কিংবা মাত্র দুই দিনের ছোট উইকএন্ড ট্রিপ! গবেষকরা বলছেন বিদেশ যাওয়ার দরকার নেই। রোজনামচায় এমন ছোট্ট বদলেই শরীর ও মস্তিষ্ক নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে!
কেমন ট্রিপে বদল আসে?
গবেষকরা দিয়েছেন কিছু দারুণ কার্যকর পরামর্শ। ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরের কোনো নদী বা লেকে একদিনের ঘোরাঘুরি হালকা বাতাস, নদীর ধারে হাঁটা মনকে দ্রুত রিল্যাক্স করে।
খুব ভালো হয়, অনেক দিন দেখা হয়নি এমন বন্ধুর সঙ্গে শহর ঘোরা। মনে রাখবেন মানসিক সুস্থতার জন্য সামাজিক সংযোগ অত্যন্ত জরুরি।এক রাতের জন্য রিসর্ট বা কটেজে থাকুন পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে। সেলফ-কেয়ার জরুরি
পরিচিত পরিবেশ বদলে গেলে মস্তিষ্কে নতুন এনার্জি আসে। আন্দামান না গেলেও চলবে। পাশেই ঝাড়গ্রাম, বোলপুর, মুর্শিদাবাদ, ঘাটশিলায় পরিবারকে নিয়ে হঠাৎ একটি লং ড্রাইভে যেতে পারেন। পরিবারের সঙ্গে কাটানো এমন সময় মানসিক শান্তি বাড়ায় বহুগুণে।
একটি ছোট্ট ট্রিপ মানে আপনার মনকে আবার জাগিয়ে তোলা। এতে খরচ কম আর সময় লাগে কম।
অজুহাত বাদ দিন
অনেকেই মনে করেন ‘ছুটি নিলে কাজ জমে যাবে’, ‘ভ্রমণ মানেই খরচ’— আসলে এগুলো অজুহাত ছাড়া কিছুই না। এই ভাবনাই মানুষকে ক্রমশ ক্লান্ত করে, মেজাজ করে অনিয়ন্ত্রিত, মানসিক চাপ বাড়ায়। গবেষণা বলছে বিরতি না নিলে মানুষ নিজেই বুঝতে পারে না যে তার মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা ক্ষতি হচ্ছে। মনে রাখবেন বিরতি বিলাসিতা নয়; প্রয়োজন। আপনার মনে হতে পারে, এক দিনের জন্য বাইরে যাওয়া কী-ই বা পরিবর্তন আনবে? কিন্তু গবেষকরা বলেন, মানুষের মস্তিস্কে নতুন জায়গা দেখলেই ডোপামিন বাড়ে, স্ট্রেস কমে, এবং মনোযোগ শক্তি বাড়ে।
ছোট ভ্রমণের দারুণ উপকার—
মানসিক চাপ কমে সৃজনশীলতা বাড়ে কাজের প্রতি বাড়ে আগ্রহ উন্নত হয় সম্পর্কের বন্ধন। ‘লাইফ ইজ বিগার দ্যান ওয়ার্ক’ এই অনুভূতি জেগে ওঠে।
গবেষকেরা বলছেন, সাতটি ট্রিপ মানে ভ্রমণ মানে, সাতবার খুশি হওয়া, সাতবার মন পরিষ্কার করা, সাতবার জীবনের প্রতি নতুন করে ফিরে আসা। জীবন শুধু কাজের জন্য নয় জীবন উপভোগ করার জন্যও। কাজ, দায়িত্ব, লক্ষ্য সব ঠিক আছে। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দিন আপনি বেঁচে আছেন। আর বেঁচে থাকার অর্থ হলো নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া। নিজেকে রিচার্জ করা।
লিখেছেন সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়