নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সোমবার দুপুরে সাঁতরাগাছি ব্রিজের উপর যাত্রীবোঝাই দুটি বেসরকারি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এতে জখম হয়েছেন সাতজন যাত্রী। গাড়ি দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটায়। একটি বাস ছিল কে-১১ রুটের, কলকাতার রবীন্দ্রসদন থেকে ডোমজুড়গামী। অন্যটি দীঘা থেকে হাওড়ামুখী। আহত যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, দুটি বাসই ব্রিজের উপর দ্রুতগতিতে এগোনোর চেষ্টা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কে-১১ রুটের বাসটি সামনে থাকা গাড়িগুলিকে ওভারটেক করতে গিয়ে হঠাৎই মুখোমুখি এসে পড়ে দীঘাগামী বাসের সামনে। একই সময়ে অপর বাসটিও গতিবেগ কমাতে পারেনি। ফলে দুটি বাস সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের অভিঘাতে দুটি বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভিতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন একে অন্যের উপর। সব মিলিয়ে দুটি বাসের মোট সাতজন যাত্রী জখম হন। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারে ছুটে আসেন কোনা ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীরা। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের কারও গুরুতর চোট নেই। হাতে-পায়ে ও নাকে আঘাত পাওয়া কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আহত যাত্রীদের মধ্যে সলপ বাজারের বাসিন্দা মাধবী ঢালি বলেন, ‘নার্ভের চিকিৎসার জন্য এসএসকেএমে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে কে-১১ বাসে উঠি। ব্রিজে উঠতেই হঠাৎই সামনে আরেকটি বাস চলে আসে। এত জোর ধাক্কা লাগল, মনে হয়েছিল বাঁচব না।’ অন্য জখম যাত্রী মিনা ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভিড়ের মধ্যেও চালক দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। উল্টোদিক থেকে বাসটিও বেপরোয়া গতিতে এলে ভয়াবহ কিছু ঘটে যেতে পারত।’ এদিনের দুর্ঘটনার জেরে সাঁতরাগাছি ব্রিজ ও কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে বেশ কিছুক্ষণ যানজট হয়। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিকে, দুটি বাসকেই আটক করেছে কোনা ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই দীঘার বাসের চালককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জগাছা থানার পুলিশ। তবে কে-১১ রুটের বাসের চালক দুর্ঘটনার পর চম্পট দেয়। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে।