শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দকুমার: সাত কোটি টাকায় জমি কিনে কমিশন দিতে খরচ দু’কোটি! নার্সিংহোম ব্যবসা করার নামে ফিক্সড ডিপোজিট(এফডি) ভাঙিয়ে জমি কেনার নামে বিস্তর অনিয়ম হয়েছে। নন্দকুমার ব্লকের ব্যবত্তারহাট কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ক্রেডিট সোসাইটির এই অনিয়ম প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে। এমনকী, লোন মঞ্জুর করার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অডিটে ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যেই, তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ওই সমবায় সমিতির আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করে রাজ্যকে রিপোর্ট দিয়েছে। রাজ্য সমবায় দপ্তর গোটা ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে তমলুক রেঞ্জের এআরসিএসকে নির্দেশ দিয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন তমলুকের এআরসিএস সোমনাথ সেন। তিনি বলেন, আমার তরফে ব্যবত্তারহাট কো-অপারেটিভ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ব্যবত্তারহাট বাজারে ওই সমবায় সমিতির মূল অফিস রয়েছে। তার অধীনে আরও প্রায় ছ’টি শাখা আছে। সমবায় সমিতির সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। ওই সমবায় সমিতির বেশকিছু কাজকর্ম নিয়ে সম্প্রতি অডিট টিম প্রশ্ন তুলেছে। এনিয়ে বোর্ডের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। জানা গিয়েছে, তমলুক শহরের ধারিন্দায় নার্সিংহোম ব্যবসা করার নামে সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে ৪৩ ডেসিমল জমি কেনা হয়েছে। এজন্য খরচ পড়েছে সাত কোটি টাকা। সমিতির ফিক্সড ডিপোজিটের টাকায় ওই জমি কিনতে গিয়ে কমিশন বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় দু’কোটি। সাত কোটির জমিতে কমিশন কীভাবে দু’কোটি টাকা হয়? এনিয়ে চেপে ধরেছে অডিট টিম। ন্যূনতম সিকিউরিটি ডিপোজিট ছাড়াই কয়েক কোটির লোন মঞ্জুর হয়েছে। একেবারে তালিকা ধরে এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অডিট। তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের কাছে এনিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়।
নন্দকুমার ব্লকের ব্যবত্তারহাট পশ্চিম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শিবপ্রসাদ সামন্ত ওই সমবায় সমিতির সম্পাদক। তিনি নিয়ম ভেঙে ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিজের নামেও লোন নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এনিয়ে স্থানীয় বিধায়ক সুকুমার দে’র সঙ্গে ওই তৃণমূল নেতার ঝামেলা বাধে। একের পর এক তদন্তে বিপদের আঁচ পেয়ে তড়িঘড়ি সমবায় সমিতি বোর্ড মিটিং ডেকেছিল। সেখানে ঠিক হয়, তমলুক শহরে নার্সিংহোম তৈরির জন্য সমবায়ের নামে কেনা জমি বিক্রি করে দেওয়া হবে। অডিট টিম যেসব লোন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তা একমাসের মধ্যে শোধ করার জন্য চাপ বাড়ানো হবে। সিদ্ধান্ত দু’টি খাতায়-কলমে নেওয়া হলেও বাস্তবে তা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, তমলুকে সাত কোটি টাকায় কেনা ওই জমি বিক্রি করে এখন তার ধারেকাছে দাম পাওয়া নিয়ে সংশয়। তাহলে এফডি ভাঙানোর বাকি টাকা আসবে কোথা থেকে? দ্বিতীয়ত, নিয়ম ভেঙে লোন দেওয়া সমবায়ের সদস্যদের প্রত্যেকেই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে লোন শোধ করার অবস্থায় নেই। অনেকেই ওই টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। তদন্ত শুরু হতেই বোর্ডের মাথায় থাকা কর্তাব্যক্তিরা বিপদের সঙ্কেত পেয়েছেন। এই মুহূর্তে ড্যামেজ কন্ট্রোলের মরিয়া চেষ্টা চলছে।
ওই সমবায় সমিতির বোর্ডের সম্পাদক শিবপ্রসাদ সামন্ত বলেন, অডিট টিম আমাদের কাছে দু’টি বিষয়ে রিপোর্ট চায়। আমরা সেইমতো রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা তমলুকে নার্সিংহোমের জন্য কেনা জমি বিক্রি করে সেই টাকা আবার এফডিতে জমা করব। যাঁদের নিয়ে অডিট প্রশ্ন তুলেছে, তাঁদের লোন শোধ করার জন্য নোটিস পাঠানো হবে।