নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সাইবার প্রতারণার লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে সোনা কেনার চক্র। ভুয়ো নথিপত্র দেখিয়ে কখনও কয়েন, কখনও সোনার গয়না কিনত চক্রের সদস্যরা। এমনকি, প্রতারণার টাকাকে সোনায় রূপান্তর করার এই চক্রে যুক্ত একটি নামী স্বর্ণালঙ্কার সংস্থার কয়েকজন কর্মীও! এক সন্দেহজনক ক্রেতার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেনওই নামী স্বর্ণালঙ্কার সংস্থার এক প্রতিনিধি। অভিযোগের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ওই চক্রের কিনারা করল পুলিশ। ওই সংস্থার এক স্টোর ম্যানেজার সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাগুইআটি, শ্রীরামপুর ও কলকাতা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েন ও গয়না মিলিয়ে ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ৭৮ লক্ষ টাকার সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ওই নামী স্বর্ণালঙ্কার সংস্থার এক বিজনেস অ্যাসোসিয়েটেট বাগুইআটি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগে বলা হয়, ‘রোহিত সিং’ নামে এক ব্যক্তি গত ১৭ জুলাই ভিআইপি রোডের শোরুম থেকে ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সোনার কয়েন কিনেছিলেন। তিনটি পৃথক ইনভয়েসের মাধ্যমে ওই সোনা কেনেন। ইউপিআই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই সে পেমেন্ট করেছিল। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, কেনাকাটার সময় তার প্যানকার্ড এবং আধার কার্ডের কপিও জমা নেওয়া হয়। পরদিন ১৮ জুলাই সে আবার ৯ গ্রামের একটি সোনার কয়েন কিনতে চায়। পেমেন্ট করার জন্য লিঙ্ক চায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সংস্থার এক ব্যবসায়িক সহযোগী কর্মীদের নির্দেশ দেন, তিনি কলকাতায় ফিরে না আসা পর্যন্ত যেন ওই লেনদেন সম্পন্ন না করা হয়।
পরে ওই ক্রেতার আধারকার্ড যাচাই করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, তা ভুয়ো। জাল নথি ব্যবহার করেই সোনা কিনেছে সে। একই সময়ে সংস্থার আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেও বাগুইআটির শোরুমকে জানানো হয়, এই ধরনের জাল নথি নিয়ে একজন ব্যক্তি শ্রীরামপুরের আরও একটি শোরুম থেকেও সোনার কয়েন কেনার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ শ্রীরামপুর শোরুমের স্টোর ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে। তারপর বাকি ছ’জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছে, এটি বড় চক্র। সাইবার প্রতারণার টাকা দিয়ে সোনা কিনে রাখত। এর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই চক্রে আরও অনেকে যুক্ত বলেই অনুমান। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের মধ্যে তিনজন শ্রীরামপুরের এবং বাকি চারজন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।