নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অন্যের নথি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে এটিএম কার্ড বিক্রি করা হতো সাইবার জালিয়াতদের কাছে। এক একটি কার্ডের দাম ছিল দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা। তদন্তে চক্রের পর্দা ফাঁস করল গার্ডেনরিচ থানা। মঙ্গলবার তারাতলা ও হাওড়ার একটি অভিজাত মলের সামনে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ওড়িশার ভদ্রকের তিন সাইবার জালিয়াত। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ এটিএম কার্ড, আধার সহ বিভিন্ন নথি।
সাইবার জালিয়াতির তদন্তে নেমে বন্দর বিভাগের অফিসারদের নজরে আসে, সেখানকার অনেকের ঠিকানায় অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট খোলার কিছুদিন পর যুক্ত মোবাইলের লম্বর বদলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গে অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও এটিএম ব্যবহার করা হয়েছে ওড়িশার বিভিন্ন জায়গায়। সেখান থেকেই টাকা উঠেছে। তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, বন্দর এলাকা হল মিউল অ্যাকাউন্ট খোলার আঁতুড়ঘর। এখান থেকেই এটিএম কার্ড ওড়িশায় সাইবার প্রতারকদের কাছে যাচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, রবীন্দ্রনগর এলাকার শাহিনুর রহমান, শেখ রাহুল, শেখ আসফাক ও আশিক হল এই কারবারের বড় মাথা। তাদের নম্বরের সূত্র ধরে পুলিস জানতে পারে, মঙ্গলবার এটিএম কার্ড ডেলিভারি করার কথা। ওড়িশা থেকে লোকজন এসেছে তা নিতে। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন থেকে মঙ্গলবার দুপুরে অফিসাররা জানতে পারেন, তারা তারাতলা এলাকায় রয়েছে। সেখানে হানা দিয়ে একটি গাড়ি থেকে চারজনকে আটক করা হয়। আসফাক ও আশিকের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ এটিএম কার্ড। চারজনকে গ্রেপ্তার করে গার্ডেনরিচ থানা। তাদের জেরা করে অফিসাররা জানতে পারেন, এই কার্ড তারা হাওড়ার একটি অভিজাত মলের সামনে ওড়িশার জালিয়াতদের কাছে সরবরাহ করতে যাচ্ছিল। তাদের কাছ থেকে ওড়িশার প্রতারকদের নাম ও নম্বর হাতে আসে অফিসারদের। একটি টিম সেখানে হানা দিয়ে তিনজনকেই ওই মলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। জেরায় তারা জানায়, ওড়িশা থেকে হাওড়ায় এসেছে। রয়েছে সেখানকার একটি হোটেলে। গোলাবাড়ি এলাকার ওই হোটেলে হানা দিয়ে সেখান থেকেও এটিএম কার্ড উদ্ধার হয়।
বন্দর এলাকা থেকে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ব্যাঙ্ক কর্মীদের একাংশের সহযোগিতায় তারা বিভিন্ন ব্যক্তির ভুয়ো নথি জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলত। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্যের সাইবার জালিয়াতদের পরিচয় হয়। সাইবার প্রতারকদের কাছে এই এটিএম বিক্রি করত বিপুল টাকায়। অ্যাকাউন্টগুলিতে জালিয়াতির টাকা জমা পড়ার পর দুষ্কৃতীরা এই এটিএম কার্ড দিয়ে টাকা তুলে নিত। হাজার খানেকের বেশি এটিএম কার্ডা বন্দরের যুবকরা বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ। বাকিদের খোঁজ চলছে।