সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: এক মাসেই বদলে গেল বিহারের ভোটার সংখ্যা। তাও এক-আধজন নয়, বাদ পড়ল ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম! শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে নীতীশ কুমারের রাজ্যের ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনে’র (এসআইআর) খসড়া তালিকা। আর তা প্রকাশ করে খোদ নির্বাচন কমিশনই জানিয়েছে, গত ২৪ জুন বিহারে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৮৯ লক্ষ। আর এদিন প্রকাশ হয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষের নাম। কমিশনের এই কাজে প্রবল ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। আগামী বৃহস্পতিবার প্রতিবাদের রণকৌশল ঠিক করতে নৈশভোজে একজোট হচ্ছে মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতৃত্ব। আর তারপর, শুক্রবার কমিশনের সদর দপ্তর ‘ঘেরাও’ কর্মসূচি।
যদিও কমিশনের সাফাই, এটা খসড়া তালিকা মাত্র। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ দেওয়া এবং সংশোধন চলবে। ২৪৩টি বিধানসভার ৯০ হাজার ৭১২টি বুথের ভোটারদের নাম, ঠিকানা, ভোটার কার্ড নম্বর সহ তালিকা বিহারের সব রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হয়েছে। তাদেরই উপর কমিশন দায় ছেড়েছে, ‘কী আপত্তি বলুন!’ যদিও বাতিল ৬৫ লক্ষের মধ্যে কে মৃত, কে স্থানাস্তরিত, বিস্তারিত তালিকা চায় বিরোধীরা। কারণ, খসড়া তালিকা প্রকাশের দিনই সামনে এসেছে গরমিল। এক মৃত মহিলা ‘এসআইআর’-এর পরও দিব্যি জীবিত হিসেবে রয়ে গিয়েছেন ভোটার লিস্টে। এমনই কাণ্ড ঘটিয়েছেন পাটনা গ্রামীণের ধানারুয়ার বাসিন্দা শিবরঞ্জন কুমার। নিজে ইনিউমারেশন ফর্ম ভরলেও, জানিয়েছেন স্ত্রী নিশা কুমারী প্রয়াত। ডেথ সার্টিফিকেটও দেখিয়েছেন। কিন্তু আদতে বেঁচে আছেন নিশা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসেছেন বিডিও। জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী জানিয়েছেন, স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা নেই। কিন্তু তাই বলে একজন জীবিতর নামে ডেথ সার্টিফিকেট কী করে? জবাবদিহির নোটিস পাঠানো হয়েছে পঞ্চায়েত প্রধান, সচিব এবং অঙ্গনওয়াড়ি সেবিকাকে। এরকম জীবিত-মৃতর ঘটনা যে আরও নেই, গ্যারান্টি কোথায়? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। কংগ্রেস এমপি রাহুল গান্ধী সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন, ‘ভোট চুরি করছে কমিশন। আমাদের হাতে প্রমাণ আছে। বিজেপির হয়ে কাজ করছে কমিশন। ভোট চুরির প্রমাণ যদি প্রকাশ্যে আনি, বোমা ফাটবে। তখন কেউ পার পাবে না।’ কমিশনও পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে। রাহুলের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে তাদের সাফাই, ‘গত ১২ জুন ই-মেল, চিঠি পাঠিয়ে আপনাকে ডাকা হয়েছিল। আসেননি। চিঠির উত্তরও দেননি। তাহলে এখন এই অভিযোগ ভিত্তিহীন!’
এসআইআর ইস্যুতে সরকারের উপর চাপ বাড়াতে লোকসভার স্পিকারকে এদিন যৌথভাবে চিঠি দিয়ে আলোচনা চেয়েছেন বিরোধী এমপিরা। সভার অন্দরে, সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শনও করা হয়। তার জেরে এই নিয়ে ১০ দিন সভা অচল হল। রাজ্যসভায় এদিন বেনজিরভাবে বিরোধীদের রুখতে ওয়েলের পথ আটকে দাঁড়ান সিআইএসএফ জওয়ানরা। যদিও তাঁদের ঠেলেই ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ তীব্র করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, তিরুচি শিবা এবং সঞ্জয় সিং। উত্তাল হয় সংসদ। এভাবে সাংসদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে সরব হন মল্লিকার্জুন খাড়্গে। চিঠি দেন ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশকে। ঘটনায় চাপে পড়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর মন্তব্য, ভবিষ্যতে যাতে এরকম কিছু না হয়, সেটা দেখব।