বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সার্বিকভাবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় দেশের শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট হল ‘ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘এনকোয়াস’। আর সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইনফেকশন কন্ট্রোলের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ শংসাপত্র ‘কায়াকল্প’। দু’টি সার্টিফিকেটই অর্জন করতে পারা মুখের কথা নয়! হাসপাতালের প্রবেশদ্বার থেকে অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম, ওষুধ সরবরাহ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রোটোকল, রোগীদের ভোগান্তি থেকে তাদের সুস্থ হতে কতদিন সময় লাগছে—এরকম হাজারও বিষয় খতিয়ে দেখে তবেই দেওয়া হয় এই শংসাপত্র। এর পাশাপাশি ‘এনকোয়াস’-এর ভিন রাজ্যের অ্যাসেসররা রোগী রেফার, প্রেসক্রিপশনের হাতের লেখা থেকে শুরু করে চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির অবস্থাও খতিয়ে দেখেন। এক থেকে তিন দিন ধরে চলে পরিদর্শন। হাসপাতাল ভেদে ৫০ থেকে ৭৫টি বড়সড় মানদণ্ড এবং ৫০০ থেকে ২ হাজার সূচক যাচাই করা হয়। সার্বিকভাবে ৭০ শতাংশ নম্বর এবং ৫০-৭৫টি মানদণ্ডের প্রতিটিতে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে তবেই মেলে সার্টিফিকেট। দু’টি ক্ষেত্রেই বাংলার সরকারি হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি ধারাবাহিকভাবে দেশের সেরা হয়ে আসছে। কিন্তু এমন কৃতিত্বের ‘পুরস্কার’ সেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনাই! হাজারও প্রতিবন্ধকতা ও খামতি সত্ত্বেও মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তুলে দেওয়ার বিনিময়ে ৬৩ কোটি টাকার পুরস্কার ও ইনসেনটিভ আটকে রেখে দিয়েছে মোদি সরকার! রাজ্যের প্রায় দু’হাজার সরকারি হাসপাতাল ও সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র এই বঞ্চনার শিকার। এমনটাই দাবি স্বাস্থ্যভবনের।



