Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

বাংলার হাসপাতালগুলির ৬৩ কোটি আটকে কেন্দ্রের দরবারে, স্বাস্থ্যের ‘বিকাশে’ পুরস্কার দিয়েও বঞ্চনা

সার্বিকভাবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় দেশের শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট হল ‘ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘এনকোয়াস’।

বাংলার হাসপাতালগুলির ৬৩ কোটি আটকে কেন্দ্রের দরবারে, স্বাস্থ্যের ‘বিকাশে’ পুরস্কার দিয়েও বঞ্চনা
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সার্বিকভাবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় দেশের শ্রেষ্ঠ সার্টিফিকেট হল ‘ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘এনকোয়াস’। আর সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইনফেকশন কন্ট্রোলের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ শংসাপত্র ‘কায়াকল্প’। দু’টি সার্টিফিকেটই অর্জন করতে পারা মুখের কথা নয়! হাসপাতালের প্রবেশদ্বার থেকে অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম, ওষুধ সরবরাহ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রোটোকল, রোগীদের ভোগান্তি থেকে তাদের সুস্থ হতে কতদিন সময় লাগছে—এরকম হাজারও বিষয় খতিয়ে দেখে তবেই দেওয়া হয় এই শংসাপত্র। এর পাশাপাশি ‘এনকোয়াস’-এর ভিন রাজ্যের অ্যাসেসররা রোগী রেফার, প্রেসক্রিপশনের হাতের লেখা থেকে শুরু করে চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির অবস্থাও খতিয়ে দেখেন। এক থেকে তিন দিন ধরে চলে পরিদর্শন। হাসপাতাল ভেদে ৫০ থেকে ৭৫টি বড়সড় মানদণ্ড এবং ৫০০ থেকে ২ হাজার সূচক যাচা‌ই করা হয়। সার্বিকভাবে ৭০ শতাংশ নম্বর এবং ৫০-৭৫টি মানদণ্ডের প্রতিটিতে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে তবেই মেলে সার্টিফিকেট। দু’টি ক্ষেত্রেই বাংলার সরকারি হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি ধারাবাহিকভাবে দেশের সেরা হয়ে আসছে। কিন্তু এমন কৃতিত্বের ‘পুরস্কার’ সেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনাই! হাজারও প্রতিবন্ধকতা ও খামতি সত্ত্বেও মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তুলে দেওয়ার বিনিময়ে ৬৩ কোটি টাকার পুরস্কার ও ইনসেনটিভ আটকে রেখে দিয়েছে মোদি সরকার! রাজ্যের প্রায় দু’হাজার সরকারি হাসপাতাল ও সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র এই বঞ্চনার শিকার। এমনটাই দাবি স্বাস্থ্যভবনের। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, সার্বিক শ্রেষ্ঠত্বের সার্টিফিকেট ‘এনকোয়াস’ বাবদ রাজ্যের ২ হাজার সরকারি হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাপ্য পুরস্কার-ইনসেনটিভের পরিমাণ প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। ‘কায়াকল্প’ বাবদ প্রায় ১৯ কোটি টাকা পাওয়ার কথা রাজ্যের। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক পদস্থ কর্তার দাবি, দু’বছর ধরে এই ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রেখেছে কেন্দ্র। ২০২৩-২৪ সালে স্বাস্থ্য পরিষেবার কেন্দ্রীয় শংসাপত্র অর্জনে দেশের সেরা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। ২৪-২৫ সালে হয় দ্বিতীয়। কেন্দ্রই লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে, দেশের সব রাজ্যের অন্তত ৫০ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এবং ১০০ শতাংশকে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ‘এনকোয়াস’ শংসাপত্র অর্জন করতেই হবে। বাংলা ইতিমধ্যে প্রথম লক্ষ্য প্রায় পূরণ করে ফেলেছে (৪৯ শতাংশ)। সম্ভবত তখন থেকেই ঘুম উড়েছে কেন্দ্রের! যেভাবেই হোক বাংলাকে পিছিয়ে দিতে পরিকল্পনা করেই আটকে রাখা হয়েছে টাকা। 
উদাহরণ হিসেবে টালিগঞ্জের এম আর বাঙুর হাসপাতালের কথা বলা যায়। জেলা হাসপাতাল ক্যাটিগরিতে ‘এনকোয়াস’ বিভাগে ধারাবাহিকভাবে তিন বছর দেশের সেরা হয়েছে এম আর বাঙুর। এর মধ্যে এক বছরের এক কোটি টাকা পেয়েছে তারা। বাংলার একাধিক হাসপাতাল ‘এনকোয়াস’-এ ৯৮ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। তবে কি ভালো কাজ করা অপরাধ? নাকি যোগ্যতার আসল মাপকাঠি হল রাজনীতি? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ