নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে সরকার বদল হলেও সাইবার অপরাধ নিয়ে চিন্তার বদল হয়নি। নতুন সরকারের প্রথম পুলিশ বৈঠকে প্রশাসনের তরফে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের সাইবার থানায় দায়ের হওয়া মামলার নিরিখে দেখা যাচ্ছে, গত তিন মাসে শহরে আর্থিক প্রতারণা শিকার হয়েছেন অনেকেই। পুলিশের রিপোর্ট বলছে, মে মাস থেকে এখনও পর্যন্ত শহর থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ৬ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। নেপথ্যে সাইবার জালিয়াতি। যা ইতিমধ্যে চিন্তা বাড়াচ্ছে লালবাজারের। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, গতবছরের তুলনায় সাইবার প্রতারণায় অর্থ খোয়া যাওয়ার হার অনেকটা কমেছে।
নতুন সরকার গঠনের পর সাইবার প্রতারণার মামলা সংখ্যা, প্রতারণার ধরন, প্রতারণায় খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ, কোন ধরনের প্রতারণায় বেশি পরিমাণে অর্থ খোয়া যাচ্ছে— এই সমস্ত তথ্যতালাশ শুরু করে লালবাজার। তাতে ১৫ মে থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সময়ে ৯টি মামলা রুজু করেছে কলকাতা পুলিশের সাইবার থানা। সেই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি ছেড়ে কোম্পানিগুলিকে টার্গেট করেছে প্রতারকরা। উদ্দেশ্য বেশি টাকা আত্মসাৎ করা। কোম্পানির বিভিন্ন সার্ভার হ্যাক করে আর্থিক প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছে। গত ২৭ মে এমনই একটি সাইবার অপরাধের মামলা রুজু হয়েছে। কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। লালবাজার জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইবার বিভাগের পরিসংখ্যান শাখা সূত্রে খবর, ২০২৪ সালে শহরে মোট ২৭৯ কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছিল। পরের বছর সেই প্রতারণার অঙ্ক অনেকটাই কমে যায়। লালবাজার জানায়, ২০২৫ সালে মোট ২১০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা হয়। প্রতি মাসে সাইবার প্রতারণায় অর্থ খোয়ানোর হার ছিল ১৭ কোটি টাকা। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সাইবার থানায় মামলার নিরিখে সেই হার অনেকটাই কম। চলতি বছরের প্রথম আটমাসে এখনও পর্যন্ত আর্থিক প্রতারণায় টাকা খোয়ানোর মাসিক হার ৩ কোটি টাকার কিছু কম। তাহলে কি চলতি বছরে সাইবার প্রতারণার হার কমবে? এনিয়ে আশাবাদী লালবাজার। যদিও পুলিশের দাবি, সাইবার প্রতারণার জন্য এখনও বছরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময় বাকি রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, আয়কর রিটার্নের সময় বহু মানুষ প্রতারণার ফাঁদে পড়েন। সাধারণত শহরের সব বড়ো আর্থিক প্রতারণার তদন্ত করে সাইবার থানা। এছাড়াও কলকাতা পুলিশের সব ডিভিশনের সাইবার সেলেও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানকার তথ্য মিলিয়ে বছরের শেষে কত টাকার আর্থিক প্রতারণার শিকার হয় কলকাতার, সেটাই দেখার।